ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় নারী শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ‘ফিমেল জোন’ চালু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ এই জোনের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এই উদ্যোগের বিষয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মতামত প্রকাশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের। তিনি জানান, আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি ভালো উদ্যোগ, কারণ হিজাব-নিকাব পরা পর্দানশীন নারী শিক্ষার্থীসহ অনেকেই পাবলিক পরিসরে খাবার খেতে অস্বস্তি বোধ করেন। টিএসসিতে সবার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং প্রতিবন্ধকতা নিরসন করা দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে একই সঙ্গে ডাকসুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, যে ডাকসু নেতৃবৃন্দ নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের কথা বলে এই পর্দাঘেরা জোন তৈরি করছেন, তারা টিএসসিতে নারী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ওয়াশরুম বিড়ম্বনা নিয়ে ততটা আগ্রহী নন। ব্যবহার অনুপযোগী ওয়াশরুম নিয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন অভিযোগ করলেও সেদিকে ডাকসুর তেমন নজর নেই, অথচ পর্দাঘেরা জোন নিয়ে তাদের উৎসাহ অনেক বেশি।
আব্দুল কাদের আরও অভিযোগ করেন যে, ডাকসুকে শুরু থেকেই একটি নির্দিষ্ট ইডিওলজি বা ঘরানার মানুষের সুবিধা-অসুবিধাকে প্রাধান্য দিতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ‘পর্দানশীন নারীরাও তো ওয়াশরুম বিড়ম্বনার শিকার। কেবল তাদের পর্দার ঘেরাটোপে খাবারের ব্যবস্থা করলেই হবে না।’ নির্বাচনের আগে পর্দার আড়ালে থেকে বক্তব্য দিয়ে পরবর্তীতে নারীকে অসম্মান করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, এই ‘ফিমেল জোন’ যেন অদূর ভবিষ্যতে তাদের ফিমেল উইংয়ের কোনো ‘টিএসসি শাখা অফিসে’ পরিণত না হয়।

