আইনি বাধা সরলেও প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে শঙ্কা

দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আটকে থাকার পর দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত করার আইনি বাধা দূর হয়েছে। তবে জুনে আপিল বিভাগের মামলার নিষ্পত্তি ও সম্প্রতি আদালতের রায়ের সারসংক্ষেপ পৌঁছালেও চূড়ান্ত পদোন্নতি নিয়ে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। রংপুর বিভাগের ১৬ বছর ধরে কর্মরত এক শিক্ষকের মতো হাজারো শিক্ষক পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় প্র প্র প্র প্র প্র প্র প্র গুণছেন। পদোন্নতি আটকে থাকায় তাঁরা শুধু পদমর্যাদা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন।

ডিপিইর তথ্যমতে, দেশের ৬৫ হাজার ৬২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানেই বর্তমানে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। চলমান এই পদোন্নতি কার্যক্রম চূড়ান্ত রূপ পেলে একযোগে ৩৬ হাজার ২৩৫ জন জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক পদোন্নতি পাবেন। এর ফলে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিনের নেতৃত্বসংকটের সমাধান মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে কোন অবস্থায় পদোন্নতিপ্রক্রিয়া। এতে বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নেতৃত্বসংকট কাটবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই স্তব্ধ হয়ে থাকা প্রশাসনিক কাজগুলো নতুন করে চালু করা হয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক তথ্য যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রস্তুত করা। শিক্ষকদের সার্ভিস বুক, বদলির রেকর্ড ও চাকরির আনুষঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে কোনো যোগ্য প্রার্থী বাদ না পড়েন। জেলাভিত্তিক এই তালিকা শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে পদোন্নতির আদেশ জারি করা হবে। কিন্তু পদোন্নতির চিঠি কবে হাতে পাবেন, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।

আইনি বিরোধের মূলে ছিল ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয়করণ করা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা হিসাব করার নিয়ম। ওই বিধিমালার ৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের পূর্ববর্তী চাকুরিকালের অর্ধেক (৫০ শতাংশ) সময়কে কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে ধরার বিধান ছিল, কিন্তু তাঁদের অবস্থান রাখা হয়েছিল সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষকদের নিচে। বেসরকারি চাকরিতে বেতন ‘আলোচনা সাপেক্ষে’, দর-কষাকষি কীভাবে করবেন চাকরিপ্রার্থীরা।

জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকেরা ওই শর্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করলে হাইকোর্ট শর্তটি বাতিল করেন। কিন্তু পরবর্তীতে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই রায় বাতিল করে সরকারের মূল বিধিমালার পক্ষেই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। চূড়ান্ত রায় অনুযায়ী, ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে থাকবেন। আর ২০১৩ সাল বা তারপরে সরাসরি আসা শিক্ষকদের সাথে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের আগের ৫০ শতাংশ চাকরির মেয়াদ যুক্ত করে জ্যেষ্ঠতা ধরা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের চাকরি, আবেদন ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আইনি জট খুললেও মাঠপর্যায়ে আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকেরা। ঢাকার একজন শিক্ষক আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, রায়ের পর প্রায় পাঁচ মাস প্রশাসনিক কার্যক্রম আটকে ছিল। এখন আর কোনো নতুন বাহানায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দাবি জানান তিনি। অবসর ঘনিয়ে আসা অন্য এক শিক্ষকের মতে, চাকরির মেয়াদ আর মাত্র দেড় বছর বাকি থাকায় জেলা পর্যায়ে নথি চালানোর কাজে বেশি সময় লাগলে শেষ বয়সে পদোন্নতির স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। তবে রায়ের অনুলিপি পেতে দেরি হওয়ায় পদোন্নতির প্রশাসনিক কার্যক্রমও এগোয়নি। দ্রুত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অবসানের আকুতি। আইনি বাধা কেটে কাজ শুরু হলেও প্রশাসনিক গতি নিয়ে চিন্তিত ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা।

শিক্ষকদের এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মাঠপর্যায়ে বিশাল শূন্যতা তৈরি হবে। পূর্বে থাকা শূন্যপদ ও পদোন্নতিজনিত কারণে নতুন শূন্যপদ মিলিয়ে একযোগে প্রায় ৩৮ হাজার ৪ ৩৩টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি হওয়ার হিসাব কষেছে ডিপিই।

সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নতুন সহকারী শিক্ষক ইতিমধ্যে পরিচিতিমূলক প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে যোগ দান করেছেন। তবে শিক্ষকদের পদোন্নতির পর বিশাল পদ খালি হওয়ায় খুব দ্রুতই আবার নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এআই যুগে গণিত শেখা কি জরুরি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ জেনে নিন।