শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর যারা অকৃতকার্য হয়েছেন বা প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল পাননি, তাদের জন্য ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে; ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। এতে প্রায় ছয় লাখ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ঢুকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে রোল-বেসড পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। বোর্ড নির্বাচনের পর মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল জানানো যায়। এরপর বিষয় নির্বাচন করে ফি জমা দিতে হবে। বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। পোর্টালের ‘পে’ বাটন থেকে ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপগুলো দেখে নেওয়া যাবে। একবার ফি জমা দেওয়া হলে কোনো অবস্থাতেই তা ফেরত দেওয়া হবে না। পরবর্তী ধাপে প্রদেয় ফির পরিমাণ দেখা যাবে।
ফি প্রদানের পর ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন নিশ্চিত করতে হবে। একবার আবেদনের পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে পুনরায় একই পদ্ধতিতে আবেদন করা সম্ভব, তবে মোবাইল নম্বর নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ফি জমা দেওয়ার আগে পর্যন্ত আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগ থাকবে; ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে অনিচ্ছাকৃত বিষয়গুলো বাদ দেওয়া বা নতুন বিষয় যুক্ত করা যাবে। তবে একবার অর্থ জমা হলে বিষয় আর বাতিল করা যাবে না।
উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ২২ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এবারের পাসের হার তুলনামূলকভাবে কম, যা নিয়ে শিক্ষাঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে। ফল পুনর্নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এইচএসসিতে ২২ বছরের মধ্যে পাসের হার কম, কিন্তু কেন এই বিপর্যয়।

