আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল ও অ্যাসিস্টে মেসির মহাকাব্যিক বিদায়

আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি লিওনেল মেসি স্মরণীয় করে রাখলেন নিজের চেনা ছন্দে। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে তিনি নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে দুটি গোল করিয়েছেন। এই ম্যাচের মাধ্যমে দীর্ঘ ২১ বছরের বেশি সময় ধরে চলা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন আর্জেন্টাইন এই কিংবদন্তি। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয় এবং সবশেষ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তার বিদায়ের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। গ্যালারিজুড়ে তখন শুধু ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা দুই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে আসে গোলটি। ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো সতীর্থকে গোল করিয়ে ব্যবধান বাড়ান মেসি।

বুয়েনস এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচ শুরুর আগে বিশাল ‘গ্রাসিয়াস’ লেখা ১০ নম্বর জার্সি মাঠে প্রদর্শন করা হয়। ম্যাচের ১০ মিনিটের সময় খেলা সাময়িক থামিয়ে স্টেডিয়ামজুড়ে মেসিকে এক মিনিট দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো হয়। পুরো গ্যালারি তখন মেসির নামে জয়ধ্বনিতে মুখরিত ছিল। এর ১১ মিনিট পর আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত।

ম্যাচের প্রথমার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেও মেসি সফল হননি। ৭ মিনিটে তার দূরপাল্লার শট বেনিনের গোলরক্ষক আটকে দেন। ২৫ মিনিটে একটি ফ্রি-কিক নেওয়ার সুযোগ পেলেও তা কাজে আসেনি এবং ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বল থেকে নেওয়া ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে যায়। ৪৮ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এর কিছু সময় পর ৬০ মিনিটে মেসির নিখুঁত পাসে চমৎকার বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন নিকো পাজ। ৩২ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বাড়ানো বল থেকে ভলিতে শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।

৭১তম মিনিটে বেনিনের খেলোয়াড় ফাউলের শিকার হলে আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পায়। ঠান্ডা মাথায় গোল করে মেসি জাতীয় দলের হয়ে নিজের ১২৬তম গোল পূর্ণ করেন। ৭৫ মিনিটে গোলের আরও একটি সুযোগ পেলেও তা বাইরে মারেন। বিদায়বেলায় নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে মেসি বলেন, তিনি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছেন এবং নিজের সবটুকু দেশের জন্য উজাড় করে দিয়েছেন, কারণ এই জার্সিই ছিল তার স্বপ্ন ও গর্ব।