শ্রেয়স আইয়ারের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের দাপুটে

লক্ষ্ণৌতে আয়োজিত তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম লড়াইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। সফরকারীদের দেওয়া ১৭১ রানের লক্ষ্যমাত্রা ভারত তাড়া করেছে মাত্র ১৪.৪ ওভারে। শ্রেয়স আইয়ারের ৪৩ বলে অপরাজিত ১০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদে ভারত সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। এটি আইয়ারের ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি, যাতে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। ইশান কিষাণ ২৭ বলে অপরাজিত ৩৭ রান করে অধিনায়ককে দারুণ সঙ্গ দেন এবং তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটি ভারতকে অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। এটি ভারতের টানা দশম টি-টোয়েন্টি জয়।

রান তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু ও আইয়ারের দাপট

লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। অভিষেক শর্মা ম্যাথিউ ফোর্ডের করা প্রথম ওভারে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন। অপরপ্রান্তে সঞ্জু স্যামসন আকেলের বলে একটি চার হাঁকান। অভিষেক রুস্টন চেজের বলে একটি চার মারলেও শেষ পর্যন্ত ১০ বলে ২১ রান করে তার কাছেই আউট হন। স্যামসন পরের ওভারে আকেল হোসেইনের শিকার হলে ভারত ৩৫ রানে ২ উইকেট হারায়। এরপর আইয়ার ও কিষাণ মিলে পাওয়ারপ্লের বাকি সময়টা দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে ৬ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৬২ রান সংগ্রহ করেন। পাওয়ারপ্লের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও রোমারিও শেফার্ডের এক ওভারে ১৯ রান আসায় তারা ব্যাকফুটে চলে যায়। দশম ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০২ রান। আইয়ার ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। শামার স্প্রিঞ্জারের করা ওভারে কিষাণ একবার ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান, কারণ থার্ড আম্পায়ার মনে করেন ফোর্ডের আঙ্গুল বলের নিচে সঠিকভাবে ছিল না। একই ওভারে আইয়ার তার ইনিংসের প্রথম ছক্কাটি হাঁকান। ১৩তম ওভারে হোসেইনের ওপর চড়াও হন আইয়ার এবং ফোর্ডের ওভারে তিনটি ছক্কা ও একটি চারের সাহায্যে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং চিত্র

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শাই হোপের ৩৬ বলে ৫২ এবং শেরফানে রাদারফোর্ডের ৩১ বলে ৫৬ রানের সুবাদে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৭১ রান সংগ্রহ করে। দলীয় ব্যাটিংয়ের শুরুতে দ্বিতীয় ওভারে মায়াঙ্ক যাদবের বলে ৪টি চার হাঁকিয়ে দারুণ শুরু করেছিলেন হোপ। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল সফরকারীরা। কামিল পুরান আউট হন আরশদীপ সিংয়ের বলে। শিমরন হেটমায়ার ৫ রানে রান-আউট হন এবং রোভম্যান পাওয়েল অক্ষর প্যাটেলের বলে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন। কুলদীপ যাদবের নবম ওভারে দুটি ছক্কা হজম করতে হয় ভারতকে এবং ১১তম ওভারে অক্ষর প্যাটেল ১৮ রান দেন। রাদারফোর্ড ও হোপের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ালেও ধীর-স্থির বোলিংয়ে উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের বোলাররা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ১০৭ রানে ৩ উইকেট থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৫ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হয়। ডেথ ওভারে রাদারফোর্ড ও হোসেইনের ৩৬ রানের জুটিতেই দলটি ১৭১ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ পায়।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯.১ ওভারে ১৭১ রান (শেরফানে রাদারফোর্ড ৫৬, শাই হোপ ৫২; নামান ধীর ৩-৩১)।
  • ভারত: ১৪.৪ ওভারে ১৭২/২ (শ্রেয়স আইয়ার ১০২*, ইশান কিষাণ ৩৭*; আকেল হোসেইন ১-৩৭)।
  • ফলাফল: ভারত ৮ উইকেটে জয়ী।

অভিষিক্ত নামান ধীর দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। আইয়ারের সেঞ্চুরিটি ভারতের অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় রোহিত শর্মার পর দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। ভারতের এই জয় তাদের বর্তমান আধিপত্যের প্রতিফলন।