ইসরায়েলি নির্বাচনে বড় হোঁচট খেলেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত প্রধান তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও কট্টর ধর্মীয় দলগুলোর জোট স্পষ্ট পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তারা সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। রাত ১০টায় ভোট শেষ হওয়ার পরপরই এই ফলাফল সামনে আসে। ফলে আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে দলগুলোর মধ্যে জোট গড়ার তীব্র দর-কষাকষি দেখা যাবে।

জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর জোট পেতে পারে ৫০টি আসন, যেখানে আগে তাদের দখলে ছিল ৬৮টি আসন। লিকুদ পার্টি একক বৃহত্তম দল হিসেবে ২৪ থেকে ২৫টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগার থেকে তারা অনেক দূরে রয়েছে। ফলে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ও ইহুদিবাদী বিরোধী জোট ৫২ থেকে ৫৩টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ এবং বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ ও ‘চ্যানেল ১৩’-এর বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও কট্টর ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকোটের মধ্যপন্থী দল ‘ইয়াশার’ পেতে পারে ২১ থেকে ২৩টি আসন (কান-এর মতে ২১, চ্যানেল ১২-এর মতে ২২ এবং চ্যানেল ১৩-এর মতে ২৩টি)।

নির্বাচনে আরব দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আরবদের দলগুলোর মোর্চা ‘জয়েন্ট লিস্ট’ ১০ থেকে ১১টি এবং ইসলামপন্থী দল ‘রা’আম’ ৭টি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে আরব দলগুলো ১৭ থেকে ১৮টি আসনে জয়ী হতে যাচ্ছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যদিও তারা কোনো জোটে নেই এবং সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও কম, তবে এই ফলাফল নেতানিয়াহুর ফেরার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে।

বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, নেতানিয়াহুর ব্লক বিপর্যয়কর পরাজয় বরণ করেছে এবং জনগণ তাদেরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে। আইজেনকোটের মধ্যপন্থী দল ‘ইয়াশার’ ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে জরিপে আভাস দেওয়া হয়েছে। পুরোপুরি ধস নেমেছে এবং জনগণ তাদেরকে ঘরে যেতে বলেছে।’।

অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে নাফতালি বেনেটের ‘বি’য়াচাদ’ দল ১২ থেকে ১৪টি, বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস ১০টি এবং আভিগডর লিবারম্যানের ‘ইসরায়েল বেইতেইনু’ ৮টি আসন পেতে পারে। উগ্র ডানপন্থী ‘ওতজমা ইয়েহুদিত’ ৭টি এবং শাস, ইউনাইটেড টোরাহ জুদাইজম ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম—প্রতিটি দল ৬টি করে আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। তবে ‘রিজার্ভিস্ট-ইকোনমিক পার্টি’ ও ‘পিপল অব ইসরায়েল’ ন্যূনতম ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে পারছে না। কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের ন্যূনতম ভোটের কাছাকাছি থাকা দুটি ছোট দল পার্লামেন্টে ঢুকতে পারছে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয় নেতাই নিজেদের বিজয়ী দাবি করে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের সুযোগ চাইতে পারেন। লিকুদ একক বৃহত্তম দল হওয়ায় নেতানিয়াহু প্রথম সুযোগ পেতে পারেন, কিন্তু তাতেও চূড়ান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

যদি কোনো পক্ষই ৬১টি আসনের সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়, তবে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন হতে পারে। এটি ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের সেই রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটাবে যখন দেশটিতে পাঁচবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি ইতিমধ্যে ভোট গণনা শুরু করেছে এবং সারা রাত আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। বুথফেরত জরিপ এবং প্রকৃত ফলাফলে পার্থক্যের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই চূড়ান্ত হিসাব পেতে সময় লাগবে। প্রতি ৩০ মিনিট পরপরই বুথফেরত জরিপের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।