সচিবালয়ে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

সচিবালয়ে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার নিয়ম অনুযায়ী সচিবালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও সরকারি কাজের এই কর্মব্যস্ত দিনে নিয়ম অমান্য করে বহিরাগতদের ভিড় লক্ষ্য করেন সরকারপ্রধান। জাপানে জেরা এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সবাই জানে দাপ্তরিক কাজের চরম প্রেশার ডে।

নিরাপত্তা প্রটোকল ছাড়াই ৬ নম্বর ভবনের ১৪ তলায় হঠাৎ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একটি দপ্তরের সামনে জনসমাগম দেখে তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সরকারি দপ্তরে এমন ভিড়কে ধানমন্ডি বা গুলশানের আড্ডাখানার সাথে তুলনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট কেন ঘিরে থাকবে? আর তখনই কোনো প্রটোকল ছাড়া ৬ নম্বর ভবনের ১৪ তলায় হুটহাট সারপ্রাইজ ভিজিট দিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। ১৪ তলার সিঁড়ি বেয়ে নামতেই চোখ ছানাবড়া- এক দপ্তরের সামনে মানুষের এলাহী কারবার। ভাবখানা এমন, যেন সচিবালয় না, ধানমন্ডি বা গুলশানের ফ্রেন্ডস ক্লাবের আড্ডাখানা। ব্রাজিলে ইতিহাস গড়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন লুলা। যাদের কাজ রাষ্ট্র চালানো, তারা ফাইলের পেছনে সময় দেবে কখন, যদি সকাল থেকেই ‘স্যার একটা তদবির ছিল’ মার্কা সিন্ডিকেট দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে।

এই অনিয়মের পরপরই কঠোর পদক্ষেপ নেন তিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ও এডিসিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তলব করা হয়। কাজের সময় কর্মকর্তাদের কাছে কার অনুমতিতে ভিআইপি ও তদবিরকারীদের ভিড় করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর মাথা ঠিক থাকবে কীভাবে।

নতুন নির্দেশনায় সচিবালয়ে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোনো অনানুষ্ঠানিক প্রবেশাধিকার থাকবে না। এছাড়া মন্ত্রী ও সচিবদের কক্ষে প্রতিদিন সর্বোচ্চ কতজন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে পারবেন, তার কোটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, সচিবালয় কোনো ব্যক্তিগত তদবির বা লবিং করার জায়গা নয়, বরং এটি ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু। তাই সরকারি অফিসারদের চেয়ারে বসিয়ে রেখে জনতার ট্যাক্সের টাকায় তদবির সিন্ডিকেট চালানোর সুযোগ নেই। সচিবালয় হলো ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য লেখার জায়গা, ব্যাকডোর ডিল আর পার্সেন্টেজ ফিক্স করার ক্লাবঘর না।

দীর্ঘদিন ধরে যারা সচিবালয়ের করিডোরে ঘুরে ক্ষমতা চর্চা করছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই সংস্কার কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রী যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। মূলত বাংলাদেশ সচিবালয়ে তদবির সিন্ডিকেট নির্মূলে এটিই সরকারের চূড়ান্ত বার্তা। দেরিতে হলেও এই বোল্ড আর আনকম্প্রোমাইজিং স্টেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে স্যালুট।