ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন নিয়ে বিসিসিআই ও রাজ্য সংস্থার মতপার্থক্য তুঙ্গে

ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) এবং তাদের রাজ্য শাখা ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (ওসিএ)-এর মধ্যে লোধা কমিটির সুপারিশ, জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে ঘিরে মতপার্থক্য চরমে পৌঁছেছে। এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত ওড়িশা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে, যেখানে মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্য ইউনিটের নির্বাচন। বিসিসিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওসিএ-কে অবিলম্বে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে, অন্যথায় তাদের আর্থিক অনুদান বন্ধ করা এবং সদস্যপদ বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নির্বাচন স্থগিত ও আইনি জটিলতা

ওসিএ-এর নির্বাচন অক্টোবর ২০২৫ সালে হওয়ার কথা থাকলেও তা দুইবার স্থগিত করা হয়েছে। ওসিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সালের জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইনের প্রভাব পর্যালোচনা করার জন্য এই বিলম্ব প্রয়োজন, বিশেষ করে ক্রিকেট অলিম্পিক অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে। ওসিএ সভাপতি পঙ্কজ মোহান্তি, সম্পাদক সঞ্জয় বেহেরা এবং কোষাধ্যক্ষ বিকাশ প্রধান ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে এই পদে বহাল রয়েছেন।

বিসিসিআই-এর হলফনামা ও অবস্থান

বিসিসিআই-এর সিনিয়র লিগ্যাল ম্যানেজার মেলিন্ডা কোলাকো হাইকোর্টে একটি হলফনামা দাখিল করেছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, “ওড়িশা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অবিলম্বে নির্বাচন আয়োজন করা অপরিহার্য।” বিসিসিআই-এর মতে, কোনো পদাধিকারী দুই বছরের বেশি সময় টানা পদে থাকতে পারেন না। হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, “অন্যথায় এটি ওসিএ-এর নিজস্ব উপবিধি, বিসিসিআই-এর মেমোরেন্ডাম অফ অ্যাসোসিয়েশন (এমওএ) এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার লঙ্ঘন হবে।”

মামলার প্রেক্ষাপট ও সরকারি নির্দেশিকা

প্রাক্তন ওড়িশা ক্রিকেটার এবং কোচ ললিতেন্দু বিদ্যাপতি মহাপাত্র আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করলে বিসিসিআই এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লোধা কমিটির বিধান না মানলে বিসিসিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী কোনো সংস্থা অনুদান পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। এদিকে, ওসিএ সম্পাদক সঞ্জয় বেহেরা আদালতে জানিয়েছেন যে, ৩১ আগস্ট ২০২৫ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তিনি ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তি উল্লেখ করে দাবি করেন যে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর নির্বাচন স্থগিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিসিসিআই-এর পাল্টা যুক্তি

বিসিসিআই তাদের হলফনামায় পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেছে, “যদিও জাতীয় ক্রীড়া শাসন আইন, ২০২৫ কার্যকর হয়েছে, তবুও ক্রিকেটকে এখনও এই আইনের আওতায় আনা হয়নি।” বিসিসিআই সুপ্রিম কোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা জনস্বার্থমূলক কাজ পরিচালনা করে এবং তাই তারা রিট এখতিয়ারের আওতাভুক্ত।

  • প্রথমবার নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল ৯ ডিসেম্বর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ম্যাচ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য।
  • দ্বিতীয়বার স্থগিত করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে।
  • বিসিসিআই-এর মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ওসিএ-এর জন্য বাধ্যতামূলক।
  • মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে।

এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফল ওড়িশা ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিসিসিআই এবং ওসিএ-এর এই দ্বন্দ্ব এখন আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি নজির স্থাপন করতে পারে।