বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিকস প্রস্তুতকারক ওয়ালটনের উৎপাদিত মাদারবোর্ড বা পিসিবিএ (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি) এখন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হচ্ছে। এই অত্যাধুনিক মাদারবোর্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হবে।
গত বৃহস্পতিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান কার্যালয়ে এই মাদারবোর্ড রপ্তানি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ যৌথভাবে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী এবং এস এম মঞ্জুরুল আলমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় যে, ওয়ালটনের রপ্তানিকৃত মাদারবোর্ড বা পিসিবিএ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক গানশট শনাক্তকরণ এবং জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ডিভাইসে ব্যবহার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা সেফপ্রো টেকনোলজিস ইনকরপোরেশন এই মাদারবোর্ডগুলোর আমদানিকারক হিসেবে কাজ করছে।
ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্স পরিদর্শনের পর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "ওয়ালটন সত্যিই এক বিস্ময়কর প্রতিষ্ঠান। ওয়ালটন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশও বিশ্বমানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তিপণ্য সফলভাবে উৎপাদন করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি করে চলেছে। ওয়ালটন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এক গর্বের বিষয়।"
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত ওয়ালটনের অত্যাধুনিক কারখানায় ফ্রিজ, কম্প্রেসর, টিভি, এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মুঠোফোন, ফ্যান, কেব্লস, ভিআরএফ ও চিলার, হোম ও ইলেকট্রিক্যাল অ্যাপ্লায়েন্স এবং লিফটসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। বর্তমানে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের অধীনে ওয়ালটনের পণ্য এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকার ৫৫টিরও বেশি দেশে সফলভাবে রপ্তানি হচ্ছে।
