কুশল মেন্ডিসের সেঞ্চুরি ও ওয়েল্লালাগের ঘূর্ণিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে

লিডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে ১৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে সফরকারী শ্রীলঙ্কা। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে লঙ্কানরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩২১ রানের এক পাহাড়সম পুঁজি সংগ্রহ করে। জবাবে ইংল্যান্ড রান তাড়া করতে নেমে সবকটি উইকেট না হারালেও ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০৫ রানে গিয়ে থমকে যায়। শ্রীলঙ্কার হয়ে ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন কুশল মেন্ডিস, যিনি একাই খেলেন ১২১ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস। তাকে যোগ্য সহায়তা করেছেন দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা।

শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ও অর্জিত রান

  1. কুশল মেন্ডিস দলের হাল ধরে ১২১ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দেন এবং ম্যাচটি লঙ্কানদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
  2. তাকে দারুণ সমর্থন জুগিয়ে কামিন্দু মেন্ডিস খেলেন ৫৪ রানের চমৎকার ইনিংস এবং পাভন রত্নায়কে ৪৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
  3. জবাবে ইংল্যান্ডের টম ব্যান্টন, বেন ডাকেট, জস বাটলার এবং উইল জ্যাকস অর্ধশতক হাঁকালেও শেষ পর্যন্ত তারা লক্ষ্য ছুঁতে ব্যর্থ হন, কারণ ১০০ রানের উদ্বোধনী জুটির পর শ্রীলঙ্কার বোলাররা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে।

শ্রীলঙ্কা টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা মাঝারি হলেও ওপেনিং জুটিতে পাথুম নিশাঙ্কা ও কামিন্দু মেন্ডিস ৪৫ রান যোগ করেন। নিশাঙ্কা ৩টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ২৫ রান করে গুস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হলে এ জুটি ভেঙে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ইংল্যান্ডের পেসাররা লঙ্কানদের কিছুটা চেপে ধরেছিল এবং প্রথম পাওয়ারপ্লেতেই তারা ৪৩টি ডট বল করতে সক্ষম হয়। তবে কুশল ও কামিন্দু দ্বিতীয় উইকেটে ১৩৭ রানের এক দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়েন, যা ছিল চলমান সফরে শ্রীলঙ্কার সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স।

সেঞ্চুরিয়ান কুশল মেন্ডিস ফিরে যাওয়ার পর পাভন রত্নায়কের সাথে তার ৪০ রানের পার্টনারশিপ শেষ হয় রিহান আহমেদের বলে স্লগ-সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে। এরপর চারিথ আশালঙ্কাও রিহানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলে লঙ্কানদের স্কোর ৪০ ওভার শেষে দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ২৩৭ রান। জনিথ লিয়ানাগের সাথে কুশল আরও ৪০ রান যোগ করেন। শেষ দিকে লিয়ানাগে ও ক্রিস ওভারটনের ওভারে লঙ্কানরা দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৪৮তম ওভারে ৩০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে। শেষ ১০ ওভারে ৮৪ রান তুলে শ্রীলঙ্কা একটি লড়াকু পুঁজি পায়। সংক্ষিপ্ত স্কোরে শ্রীলঙ্কা ৫০ ওভারে ৩২১/৬ (কুশল ১২১, কামিন্দু ৫৪, পাভন ৪৮; রিহান ২-৪৮) এবং ইংল্যান্ড ৫০ ওভারে ৩০৫/৯ রান তুলতে সমর্থ হয়।

ইংল্যান্ডের রান তাড়া এবং ব্যাটিং বিপর্যয়

৩২২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টন রীতিমতো ঝড় তোলেন। প্রথম ১০ ওভারেই তারা ১৪টি চারের সাহায্যে স্কোরবোর্ডে ৮২ রান যোগ করেন। লঙ্কান পেসার আসিথা ফার্নান্দো নিজের প্রথম দুই ওভারে ২৩ রান এবং দিলশান মাদুশঙ্কা প্রথম দুই ওভারে ২২ রান দিয়ে বসেন। ডাকেট মাত্র ৪৪ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন এবং ব্যান্টন ৩৯ বলে ফিফটি করার পর সচিন্ডু কলম্বাগের ওভারে দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। এই দুই ওপেনার ২০ ওভারের মাঝেই ১৪৩ রান যোগ করে ম্যাচ পুরোপুরি ইংল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান।

ঠিক এই সময়ে শ্রীলঙ্কার স্পিনার ডুনিথ ওয়েল্লালাগে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। তিনি প্রথমে ডাকেটকে ৬৭ রানে বোল্ড করেন, পরের ওভারে ব্যান্টনকে ৭৩ রানে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন এবং এরপর ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে এলবিডব্লিউ করে সাজঘরে পাঠান। ফলে ১৪৩/০ থেকে ইংল্যান্ড হঠাৎ করেই ১৫৭/৩ রানে পরিণত হয়। জস বাটলার ৩৬ বলে ফিফটি পূরণ করে দলের উদ্ধারকাজে নামেন এবং পুরুষ ক্রিকেটে প্রথম ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে আন্তর্জাতিক সাদা বলের ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে পেশির টানের কারণে তাকে সাময়িকভাবে মাঠ ছাড়তে হয় এবং পরবর্তীতে উইল জ্যাকস ৫৯ বলে ফিফটি করে লড়াই চালালেও শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কা ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে।