গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভারত থেকে বাংলাদেশে পানি না আসলে ভারতীয় কোনো পণ্য বাংলাদেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেছেন, পানির অভাবে কোনো করিডর কিংবা ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে না এবং ভারতীয় কোনো চ্যানেল বাংলাদেশে চালু রাখা হবে না। রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নাহিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তি। যদি বাংলাদেশের নদীতে পানি না আসে, তাহলে ভারতীয় কোনো চ্যানেল বাংলাদেশে চলবে না।’। জাপান আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র, জাপান বাংলাদেশে ইনভেস্ট করেছে অতীতেও।
মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের স্মৃতিচারণ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ আবারও একই ধরণের লংমার্চের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে ঋণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে, কিন্তু কেউ বিশ্বাসযোগ্যতার অভাবে ঋণ দিতে চাচ্ছে না। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নিয়ে জাপানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জনগণের কাছে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই চুক্তির আড়ালে ভারতকে কোনো অবৈধ সুযোগ দিলে জনগণ তা রুখে দেবে। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মওলানা ভাসানীর ইতিহাসকে স্মরণ করতে চাই, তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। ইনশা আল্লাহ, যদি সে রকম কিছু হয়, আমরা আবারও লংমার্চের জন্য প্রস্তুত আছি।’। কিন্তু সরকারকে কেউ বিশ্বাসও করছে না, ঋণ দিচ্ছে না।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, এখন শুধু বাস্তবায়ন বাকি। তিনি অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার কাজ এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। এর ব্যত্যয় ঘটলে সাধারণ জনগণ ও বিরোধী দল তা মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। তাঁরা এখন আলোচনার জন্য বিরোধী দলকে সেখানে যেতে বলছে, কিন্তু অনেক আগে নির্বাচনের আগেই আলোচনা কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে।
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ালেও শ্রমিক ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের মজুরি বাড়ায়নি। এই বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে তিনি অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের দাবি তোলেন। অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফরহাদ সোহেল।

