ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা কমিয়ে দুই দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগামী ২২ ও ২৩শে অক্টোবর আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামের এবিজি স্পোর্টস সিটিতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, বিসিবি একাদশের এই প্রস্তুতি ম্যাচে জাতীয় দলের কোনো ক্রিকেটারকে রাখা হচ্ছে না। বর্তমানে জাতীয় ক্রিকেট লীগের প্রথম শ্রেণির খেলা চলছে যা ২১শে অক্টোবর শেষ হবে এবং ২৫শে অক্টোবর থেকে নতুন রাউন্ড শুরু হবে। বাশার বলেন, এই সূচির মাঝখানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ব্যস্ততা বাড়াতে বা সূচিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে চায় না বোর্ড। আমাদের এই রাউন্ডটা শেষ হবে ২১ তারিখে। আবার পরের রাউন্ডের ম্যাচ শুরু হয়ে যাবে ২৫ তারিখে। যেহেতু এটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ, তাই খুব বড় পরিচিত নাম না-ও দেখতে পারেন। ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে তালিকা পাঠানো হলেও বিসিবি দল ঘোষণা করেনি।
প্রস্তুতি ম্যাচের দল গঠন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক জানান, স্কোয়াডে মূলত তারাই সুযোগ পাচ্ছেন যারা প্রথম শ্রেণির ম্যাচের একাদশে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটারকেও এই তালিকায় রাখা হয়েছে। দল ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছু ইনজুরিজনিত সমস্যা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। লিটন দাস ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন এবং তার ইনজুরি আপডেট সম্পর্কে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ জানায়, তিনি আগামী দুই-তিন দিন রিহ্যাব করবেন এবং এরপর তার ফিটনেস পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। অন্যদিকে, নাহিদ রানা অস্ট্রেলিয়াতে আরও ৭ থেকে ১০ দিন থাকবেন এবং সেখান থেকে ফেরার পরই তার মাঠের অবস্থার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেখান থেকে ফিরে আসলে জানা যাবে তার কতদিন আরো মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে।’।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান সাইকেলে বাংলাদেশ ৬টি ম্যাচের মধ্যে ৩টিতে জয় পেয়ে পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণে টাইগারদের সামনে এখন গাণিতিক ও কৌশলগত কঠিন সমীকরণ। টুর্নামেন্টের বাকি সময়গুলোতে অন্তত ৬৫% থেকে ৭০% পয়েন্ট ধরে রাখতে বাংলাদেশকে আরও ৪৭ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন দুটি সিরিজে ৪টি ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া বিদেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে কঠিন কন্ডিশনে অন্তত একটি টেস্ট জয় পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে টুর্নামেন্ট শেষে অন্তত ৬৫% থেকে ৭০% পয়েন্টের হার বজায় রাখতে হবে, যার জন্য টাইগারদের ঝুলিতে আরও অন্তত ৪৭ পয়েন্ট প্রয়োজন। এই সমীকরণ মেলাতে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ ম্যাচের দুটি হোম সিরিজে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে ৪টি ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করতে হবে।
সিরিজের লক্ষ্য অর্জনে মাঠের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ব্যাটিং ও বোলিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। তবে দলের নিয়মিত খেলোয়াড়দের ইনজুরি এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাহীনতা এই পথে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একদিকে লক্ষ্য অর্জন, অন্যদিকে নতুন খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন টিম ম্যানেজমেন্টের প্রধান কাজ। ২৮শে অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্ট সিরিজের পূর্ণাঙ্গ দল ঘোষণার বিষয়টি মূলত ইনজুরি আক্রান্ত খেলোয়াড়দের ফিটনেস রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে। অন্যদিকে ইনজুরিতে থাকা নাহিদ রানাকেও সিরিজের দলে পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে ভেন্যুর সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল বিসিবির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছে। বিসিবির গ্রাউন্ডস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার সৈয়দ আব্দুল বাতেনের নেতৃত্বে এই পরিদর্শনে মাঠ, উইকেট, ড্রেসিংরুম এবং চিকিৎসা ও সংবাদ কাভারেজের বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। ভেন্যুর সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতি দেখে বিসিবি প্রতিনিধি দল সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ম্যাচ পরিচালনার জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

