ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণে বাংলাদেশ

আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয় কেবল পয়েন্ট টেবিল নয়, দলের নিট রানরেটের ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। শনিবারের ম্যাচে জিম্বাবুয়ে প্রথমে ব্যাট করে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। অথচ শুরুর দিকে মাত্র ২৪ রানের মধ্যে তাদের তিনটি উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরও জিম্বাবুয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে বড় স্কোর গড়ে। জবাবে বাংলাদেশের পুরো ইনিংস ১৭২ রানে গুটিয়ে যায়। এই হারের ফলে বাংলাদেশের নিট রানরেট দাঁড়িয়েছে -১.৯৮০, যেখানে জিম্বাবুয়ের রানরেট +১.৯৮০। জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় হার দিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। শুরুতে মাত্র ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। তাতে শুধু পয়েন্ট হারানো নয়, নিট রানরেটেও বড় ধাক্কা খেয়েছে দল।

টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, লিগ পর্বে প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলবে এবং পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুটি দল আগামী ২৩ অক্টোবরের ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার ভাগ্য অনেকটা জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মধ্যকার পরবর্তী ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী লড়াই কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে ভালো হয়, যদি আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে জয়লাভ করে। সে ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নিশ্চিতভাবে ফাইনালে চলে যাবে। এরপর ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেলে তাদের পয়েন্ট হবে ২। অপরদিকে আফগানিস্তান দুটি ম্যাচই হেরে পয়েন্ট তালিকায় শূন্য থাকবে, ফলে বাংলাদেশ ফাইনালে উঠে যাবে। আজ আফগানিস্তানকে হারাতে পারলে জিম্বাবুয়ের পয়েন্ট হবে ৪।

তবে আজকের ম্যাচে আফগানিস্তান জয়ী হলে হিসাবটা জটিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তিনটি দলেরই পয়েন্ট সমান ২ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তখন ফাইনালিস্ট নির্ধারণ করা হবে নিট রানরেটের ভিত্তিতে। আজকের ম্যাচের ব্যবধান ও ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঠিক কত রান বা কত ওভার হাতে রেখে জিতলে রানরেটে এগিয়ে থাকবে। আফগানিস্তান যদি আজ বড় ব্যবধানে জয় পায়, তবে বাংলাদেশের জন্য রানরেটের চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের এখন মূল নজর ১৯ অক্টোবরের আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ম্যাচের দিকে, যেখানে জিম্বাবুয়ের জয়ই স্বস্তির পথ তৈরি করতে পারে। আর আফগানিস্তান জিতলে শেষ ম্যাচে শুধু জয় নয়, রান তোলার গতি ও প্রতিপক্ষকে দ্রুত অলআউট করার দিকেও নজর রাখতে হবে।