বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণ ও সরাসরি নিয়োগদাতাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের সুযোগ দিতে রাজধানীতে আয়োজন করা হয় বিশেষ চাকরি মেলা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রোববার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সকালে আয়োজনের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে দেশের কর্মপ্রত্যাশী যুবকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আয়োজকদের তথ্যমতে, মেলার শুরুর দিন বেলা তিনটা পর্যন্ত অন্তত ৩৫ হাজার চাকরিপ্রার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
এবারের মেলায় অংশ নিয়েছে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৫৫টি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো মোট ২৭২টি পদের বিপরীতে প্রারম্ভিক আবেদন ও জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। চাকরিপ্রার্থীরা যেন কোনো হয়রানি বা জটিলতা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগদাতাদের মুখোমুখি হতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এই মেলার নকশা করা হয়েছে। মেলার সমন্বয়ক ও অনলাইন চাকরির পোর্টাল বিডিজবসের প্রোগ্রাম হেড মোহাম্মদ আলী ফিরোজ জানান, সরাসরি আবেদনের মাধ্যমে মেলা চলাকালেই প্রায় ১০০ জন যোগ্য প্রার্থীর তাৎক্ষণিক চাকরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মেলা চলাকালে প্রায় ১০০ জন প্রার্থীর তাৎক্ষণিক চাকরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’। ইউরোপের ঘণ্টাপ্রতি বেতন যে ১০ দেশে সবচেয়ে বেশি। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনে ৯০ জনের চাকরি, অনলাইনে আবেদন শুরু ২ নভেম্বর।
মেলায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ স্টলেই সিভির কাগজের ফাইল জমা নেওয়ার পরিবর্তে ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়। প্রতিটি বুথের সামনে থাকা বড় বিলবোর্ডে কিউআর কোড টানিয়ে দেওয়া হয়, যা চাকরিপ্রার্থীরা তাদের স্মার্টফোনে স্ক্যান করে সহজেই সিভি জমা দেন। এতে প্রার্থীরা কাগজ বহন করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পান। মেলায় অংশ নেওয়া সি পি গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ক সামিয়া আক্তার ববি জানান, তারা পাঁচটি নির্দিষ্ট পদের জন্য কিউআর কোডের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করছেন এবং মেলা শেষে এসব সিভি যাচাই-বাছাই করে উপযুক্তদের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ডাকা হবে। মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই সিভি জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করছে।
মেলার সার্বিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সেখানে আসা সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা তরুণ-তরুণীরা। ২০২৬ সালে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা দুই বন্ধু রাতিয়া নাহার ও সানজানা রহমান পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে তাদের সিভি জমা দিয়েছেন। তারা জানান, নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এটি চমৎকার এক সুযোগ। তবে এই ধরনের সুযোগ শুধু এক দিনের আয়োজনে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরজুড়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত আয়োজন করা উচিত। এতে দেশের সার্বিক বেকার সমস্যা নিরসনে আরও বড় প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে। মেলায় আসা চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী রাতিয়া নাহার ও সানজানা রহমান।
মেলায় আসা তরুণরা কেবল ডিজিটাল সিভি জমার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার ও সরাসরি নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। রাতিয়া ও সানজানা বলেন, সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রায়ই দীর্ঘসূত্রতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সরকারি খাতেও যদি মেলার মতো প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করা যায়, তবে তরুণদের সময় বাঁচবে এবং সেখানেও আবেদনের সুযোগ আরও সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। বেসরকারি সংস্থায় বড় নিয়োগ, পদ ১৭৮২।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সার্বিক উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশ। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানায়, এই চাকরির মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার কর্মপ্রত্যাশীর কর্মসংস্থান তৈরির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রয়েছে। তবে মেলায় নিবন্ধিত বা সিভি জমা দেওয়া মানেই যে চাকরি নিশ্চিত হওয়া নয়, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। মেলা শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সিভি যাচাই করে পরবর্তী ধাপে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। যোগ্য প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে।’।

