টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘি থেকে গারোবাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক টেলিভিশন প্রতিনিধির বিরুদ্ধে এক ঠিকাদারকে মোবাইল ফোনে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মামুনুর রহমান সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কোটি কোটি টাকার টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আজিজুর রহমানকে ওই ৫ কোটি টাকার কাজ থেকে বিরত থাকতে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডে মামুনুর রহমানকে ঠিকাদার আজিজুর রহমানের সঙ্গে টেন্ডার নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, “আপনি কি জানেন টেন্ডারের বিডি কে দিয়েছে, সিডিউল কে কিনেছে? খোঁজ না নিয়ে কাজ নিতে আসছেন কেন?” কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি দাবি করেন যে, তিনি দুই মাস আগেই সিডিউল কিনে বিডি জমা দিয়েছেন। এরপর ঠিকাদারের উদ্দেশে তাকে হুমকির সুরে বলতে শোনা যায়, “কাজটি ভালো করেননি। ওকে দেখছি।”
সংশ্লিষ্টদের দাবি, মামুনুর রহমানের নামে সড়ক ও জনপথ বিভাগে কোনো বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই। যদি তাই হয়, তবে সরকারি কাজের সিডিউল কেনা এবং বিড জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ কার্যালয় চত্বরে ঠিকাদার আজিজুর রহমানকে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ওই ঘটনায় মামুনুর রহমানের আশ্রয় ছিল এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ৩ লাখ টাকার একটি চুক্তিরও অভিযোগ রয়েছে।
তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খানের দায়িত্বকালীন সময়ে এসব ঘটনা ঘটলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ঠিকাদারদের অভিযোগ। ড. সিনথিয়া আজমিরী খান বর্তমানে বদলি হয়ে ঢাকায় চলে গেছেন। অডিও রেকর্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এটিকে ‘হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করলেও টেন্ডার সংক্রান্ত কোনো অভিযোগের বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন।
এদিকে, ঠিকাদার আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও তার এক সহযোগী জানিয়েছেন, অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তিনি আতঙ্কে রয়েছেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের টাঙ্গাইল প্রতিনিধি মামুনুর রহমান বলেন, তিনি কাজটি বাগিয়ে নেননি, বরং টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু পাননি। তিনি দাবি করেন, টেন্ডারে অংশ নেওয়ার পর ঠিকাদার আজিজুর রহমানের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, “না পাওয়ার কারণে তাকে বলেছিলাম—আপনি যখন টেন্ডারটা নিলেন, আপনি তো টেন্ডারওয়ালার ফোন করেন নাই। তাহলে কাজটা কীভাবে করলেন?”
নিজের ঠিকাদারি কার্যক্রমের বিষয়ে মামুনুর রহমান জানান, তিনি বিভিন্ন সময় অন্যের লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে কাজ করেন। তিনি নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানান। তার ভাষ্যমতে, “নিশ্চয়ই আপনি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন যে আমাদের চলার জায়গাটা পর্যাপ্ত না বিধায় এরকম ঠিকাদারি কাজ মাঝে মাঝে ভাই-ব্রাদার নিয়ে করি।” প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অডিও রেকর্ডটি হাতে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি ঘটনাটি যাতে গণমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সে জন্য মামুনুর রহমানের সঙ্গে ৩ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহযোগী জানিয়েছেন, অডিও রেকর্ডটি সাংবাদিকদের হাতে যাওয়ার কথা জানার পর থেকেই আজিজ আতঙ্কে আছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওইটা টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেছিলাম, কিন্তু কাজটা আমি পাই নাই।”। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ভাষায়, “আপনিও গণমাধ্যমকর্মী, আমিও গণমাধ্যমকর্মী।

