দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ উপকূলের সৈকতগুলোতে হাজার হাজার লেডিবার্ড বা ছোট রঙিন গুবরে পোকার অস্বাভাবিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কেপটাউনের স্ট্র্যান্ড সৈকতে জোয়ারের জলরেখা বরাবর লাল ও কালো রঙের এসব পতঙ্গের দীর্ঘ সারি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শুধু স্ট্র্যান্ড নয়, গর্ডনস বে, ল্যামবার্টস বে এবং উডব্রিজ আইল্যান্ড এলাকার সৈকতের বালুতেও বিপুলসংখ্যক লেডিবার্ড ভেসে এসেছে। এমন বিরল ও রহস্যময় দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও বিস্ময় সৃষ্টি করেছে, যার ছবি ও ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।
পতঙ্গবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তন এবং শক্তিশালী বাতাসের প্রবাহই সম্ভবত এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বৃষ্টির পরবর্তী সময়ে প্রকৃতিতে ক্ষতিকারক জাবপোকা বা এফিডের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়, যা লেডিবার্ডের প্রধান খাদ্য। পর্যাপ্ত খাদ্যের সুবাদে লেডিবার্ডের বংশবৃদ্ধি দ্রুত হয়। কিন্তু আবহাওয়া হঠাৎ গরম ও শুষ্ক হয়ে পড়ায় খাদ্য এবং আশ্রয়ের সন্ধানে এই পতঙ্গগুলো ঝাঁক বেঁধে উড়তে শুরু করে। ওড়ার পথে প্রবল সমুদ্রের বাতাসের তোড়ে পড়ে পথভ্রষ্ট হয়ে এগুলো সমুদ্রে আছড়ে পড়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরবর্তীতে জোয়ারের ঢেউয়ে সেগুলো উপকূলে ভেসে এসেছে। পতঙ্গবিদ ও বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন ও তীব্র বাতাসের গতির কারণেই এমনটি ঘটতে পারে। বৃষ্টির পর লতাপাতায় ক্ষতিকর জাবপোকাসহ (এফিড) ক্ষুদ্র উদ্ভিজ্জ পোকার সংখ্যা বাড়ে, যা লেডিবার্ডের প্রধান খাদ্য।
গবেষকরা স্ট্র্যান্ড এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালিয়েছেন।
প্রাপ্ত নমুনায় বেশ কিছু স্থানীয় প্রজাতির লেডিবার্ড পাওয়া গেলেও, ক্ষতিকারক বা আগ্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘এশীয় হারলেকুইন’ প্রজাতির কোনো লেডিবার্ড সেখানে শনাক্ত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কৃষি ও পরিবেশের জন্য লেডিবার্ড অত্যন্ত উপকারী বন্ধু পোকা, কারণ এরা ফসলের ক্ষতিকারক জাবপোকা খেয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই উপকূলজুড়ে এদের ব্যাপক উপস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হলেও, জনস্বাস্থ্যের জন্য এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তারা। তবে ঘটনার সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে আরও বিশদ পরিবেশগত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

