নিউইয়র্ক সফরের আগে সন্তানকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট নির্মাতা হিমেল আশরাফের

চলচ্চিত্র পরিচালক হিমেল আশরাফ ব্যক্তিগত জীবনে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানিয়েছেন, তাঁর বয়স যখন দুই-তিন বছর, তখন মা শরীয়তপুরে শিক্ষকতা করতেন বলে তিনি সেখানে থাকতেন। সেই সময় বাবা সোনালী ব্যাংকের ঢাকা হেড অফিসে ভালো পদে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের টানেই বাবা একসময় চলে এসেছিলেন। এখন নিজের সন্তান হওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছেলের মায়াবী চাহনি দেখে বাবাদের সেই ত্যাগ ও কষ্টের গভীরতা তিনি নতুন করে অনুভব করছেন। আমার যখন ২/৩ বছর বয়স, তখন আমি আর আম্মু শরীয়তপুরে থাকতাম, কারণ আম্মু সেখানে শিক্ষকতা করতেন। এই জন্য অনেকেই তখন বলাবলি করতেন, এই পজিশন ফেলে এসে আব্বু ভুল করল। কিছুদিন পরেই আব্বু অনেক তদবির করে, অনেকটা জোর করেই ঢাকা থেকে শরীয়তপুরে বদলি হয়ে যান শরীয়তপুরের সোনালী ব্যাংকের ব্রাঞ্চে। শরীয়তপুরের ব্রাঞ্চের চাকরির পোস্টটা আব্বুর ঢাকার ব্রাঞ্চের পোস্টের চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

পরিবারের গুরুত্ব তুলে ধরে হিমেল বলেন, একজন প্রবাসী বাবার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো সন্তানের বেড়ে ওঠার মুহূর্তগুলোতে পাশে থাকতে না পারা। তিনি জানান, জরুরি প্রয়োজনে সাত দিনের জন্য নিউইয়র্কে যাচ্ছেন। কিন্তু যাওয়ার আগ মুহূর্তে ছেলের মুখটি বারবার ভেসে উঠছে। তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, এই সাত দিন যেন সাতটি বছরের সমান। ৭ দিনের জন্য নিউইয়র্ক যাচ্ছি।

এদিকে কর্মব্যস্ততার মধ্যেও চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরব রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) নির্বাচন ২০২৬-২৮ ঘিরে বর্তমানে আব্দুর রহমান ও রাহাত সাইফুল প্যানেল থেকে সাবেক সভাপতি রাজু আলীম এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিমন মাহফুজ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সবশেষে নিজের ছেলের মায়ার কথা উল্লেখ করে হিমেল আশরাফ প্রার্থনা করেছেন, সৃষ্টিকর্তা যেন পৃথিবীর সকল শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসি-আনন্দে ভালো রাখেন। বাবাদের কাছে সংসারের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্য কিছু নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।