পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা: ব্যবসায়ীদের মনে ক্ষোভ ও বৈষম্যের অভিযোগ

গত ২৪শে আগস্ট সরকার নতুন আমদানি নীতিমালা জারি করেছে, যেখানে পুরাতন বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই নীতিমালার আওতায় কেবল নতুন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরের বাজেটে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে করছাড়সহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। পরিবেশদূষণ রোধ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক বাস এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক বাস-ট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ছাড়া সব শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও কর কমানো হয়েছিল। এমন ইতিবাচক উদ্যোগের বিপরীতে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে এসেছে।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি আব্দুল হক এই সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই পুরাতন বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এ বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তিনি পরামর্শ দেন, সরকার চাইলে ব্যাটারির আয়ুষ্কাল বা মান নিয়ে শর্ত জুড়ে দিতে পারতো, কিন্তু পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় পুরো খাতটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বারবিডার পক্ষ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির সূত্র জানিয়েছে, নীতিমালা জারির আগে কিছু রিকন্ডিশন বৈদ্যুতিক গাড়ি জাহাজীকরণ করা হয়েছিল, যা খালাসের সুযোগ থাকলেও এরপর থেকে আর নতুন করে আমদানির পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

বারবিডার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ডন জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় দেড় হাজার আমদানিকারক সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি বলেন, নতুন একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি কিনতে যেখানে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা প্রয়োজন, সেখানে পুরাতন গাড়ির দাম তার অর্ধেক হতে পারে। ক্রেতারাই সিদ্ধান্ত নেবেন তারা নতুন গাড়ি কিনবেন নাকি সাশ্রয়ী মূল্যে পুরাতন গাড়ি বেছে নেবেন। তিনি বর্তমান সরকারকে ব্যবসায়ী বান্ধব উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তার মতে, পুরাতন গাড়ি আমদানির সুযোগ থাকলে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় থাকতো এবং সাধারণ মানুষের জন্য পরিবেশবান্ধব গাড়ি ব্যবহার সহজ হতো।

গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মরিয়ম কারস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. ইউনূস আলী জানান, ব্যবসায়ীরা বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলেন এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু নতুন নীতিমালার কারণে এখন তাদের সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হচ্ছে, যা অনেকের ব্যবসায়িক অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে বাজারে চীন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিক গাড়ির আধিপত্য রয়েছে এবং গুটি কয়েক প্রতিষ্ঠান এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই নতুন নীতিমালা কি নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে—এমন প্রশ্নও তুলছেন ব্যবসায়ীরা।

দেশের গাড়ির বাজার ঐতিহাসিকভাবেই জাপাননির্ভর। আমদানিকারকদের মতে, চীন থেকে আসা গাড়ির তুলনায় জাপানি রিকন্ডিশন গাড়ির খুচরা যন্ত্রাংশ সহজলভ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে মেরামতের জন্য দক্ষ জনবলও রয়েছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে গাড়ি আমদানি করে যারা দেশের পরিবহন খাতকে সমৃদ্ধ করেছেন, তারাই এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে বাজার উন্মুক্ত রাখলে চাহিদার ভিত্তিতে আমদানিকারকরা ব্যবসার ধরন নির্ধারণ করতে পারতেন। এখন এই খাতটি একটি সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার চূড়ান্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ ক্রেতা ও দেশীয় বাজারে। চাকরির আরও তথ্য: উল্লেখ্য গত ২৪শে আগস্ট জারি করা আমদানি নীতিমালায় যানবাহন আমদানির ক্ষেত্রে বলা হয়, ৫ বছরের অধিক পুরাতন গাড়ি, মোটরকার, প্যাসেঞ্জার কার ও ট্রাক আমদানি করা যাইবে তবে পুরাতন বা ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করা যাইবে না। চাকরির আরও তথ্য: এসব কোম্পানিকে সুবিধা দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কিনা এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চাকরির আরও তথ্য: রিকন্ডিশন গাড়ির বেশির ভাগই আসে জাপান থেকে। চাকরির আরও তথ্য: এতে দেশে এই ধরনের গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। চাকরির আরও তথ্য: সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এতে আমরা বিস্মিত হয়েছি। চাকরির আরও তথ্য: এই বাজারের বিকাশ হোক এটি সরকারও চাইছে।