প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রথমবারের মতো উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তাঁর এই আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি ও তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি কাটাখালী মোড়ে এক পথসভায় অংশ নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সফরের সার্বিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সভা-সমাবেশের স্থান প্রস্তুত এবং আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের উন্মাদনার পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের নজর এখন দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার সমাধানের দিকে। উপকূলবর্তী এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি হলো সুপেয় পানির তীব্র সংকট। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন এই অঞ্চলের বহু মানুষ। এছাড়া এলাকাটিতে উন্নত চিকিৎসাসেবার ঘাটতি, জরাজীর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা ও মৌলিক অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে বেশ কঠিন করে তুলেছে। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের মূল দাবির মধ্যে অন্যতম হলো একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ স্থাপন।
স্থানীয়দের আশা, এই সফরের মাধ্যমে বাগেরহাটের অবহেলিত খাতগুলোর দিকে সরকারের কার্যকর নজর পড়বে এবং থমকে থাকা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হবে। বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আল মামুন এ বিষয়ে বলেন, এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে উপকূলের খাবার পানির কষ্ট দূর করতে দ্রুত সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে জেলাবাসীর এসব দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সফল ও অর্থবহ করতে দলীয়ভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সফরটি সুচারুভাবে সম্পন্ন হলে বাগেরহাটের সার্বিক উন্নয়ন ও উপকূলীয় অধিবাসীদের স্বপ্নপূরণে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। স্থানীয়রা প্রত্যাশা করছেন, এই সফরটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সুপেয় পানি, আধুনিক চিকিৎসা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে বাস্তব পদক্ষেপ বয়ে আনবে।

