সিরাজগঞ্জের চলনবিল সংলগ্ন উল্লাপাড়া ও তাড়াশ উপজেলার উর্বর কৃষি জমিতে এখন আগাম আলু চাষের ধুম পড়েছে। বিলের পানি নেমে যাওয়ার পর থেকেই কৃষকরা জমি প্রস্তুত করে বিভিন্ন জাতের আলুর বীজ রোপণ শুরু করেছেন। চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়ায় ১ হাজার ৩৮ হেক্টর এবং তাড়াশে ১৩০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এখন পর্যন্ত উল্লাপাড়ায় ৮৫ হেক্টর এবং তাড়াশে ৫ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে উল্লাপাড়ার মোহনপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর ও সাতবিলার মাঠে আলুর আবাদ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবছর এই উপজেলায় ১হাজার ৩৮ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধরান করা হয়েছে। ইতি মধ্যেই ৮৫ হেক্টর জমিতে আলু লাগানো হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই তারা মাঠে আলু রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে তিন বিঘা জমিতে আলু বীজ রোপণ করেছেন। তিনি ভালো ফলনের পাশাপাশি এবার ভালো বাজারদর পাওয়ার বিষয়েও আশাবাদী। একই ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাদিদুল ইসলাম জানান, মাহমুদপুর ও সাতবিলার অনেক কৃষক আগে থেকেই বিভিন্ন এলাকার কোল্ড স্টোরেজে বীজ আলু সংরক্ষণ করেছিলেন, যা এখন জমিতে ব্যবহার করছেন তারা। তিনি আশা করছেন আলুতে ভালো ফলনের পাশপাশি ভালো দামও পাবেন।
উল্লাপাড়া ও তাড়াশের বিভিন্ন হাটে ব্যবসায়ীদের আনা নানা ধরনের বীজের পসরা বসেছে। কৃষকদের মধ্যে রোমানা জাতের আলু বীজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি, যা প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও সাইটা ও কাঠিলাল জাতের বীজ প্রতি কেজি ২৬ থেকে ৩০ টাকা দরে কেনাবেচা চলছে। ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, কৃষকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই তারা মোকামি বীজ আলু সরবরাহ করছেন। প্রতি বছর বর্ষায় পলি পড়ার কারণে এখানকার জমি বেশ উর্বর হয়, যা আলুসহ অন্যান্য ফসল চাষের জন্য খুবই উপযোগী।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সূবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, চলনবিল থেকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথেই কৃষকরা আলু চাষে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। চাষিদের সঠিক মানের সার ও উন্নত বীজ ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। একইভাবে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও এখানকার কৃষকরা আলু চাষের মাধ্যমে বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগ্রহী। কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

