বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমেদসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনার সময় তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার ইন্টারপোল এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মিশনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করছে।
সংসদ অধিবেশনে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিটি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। তার বক্তব্যের আগে ও পরে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। উল্লেখ্য যে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন বেনজীর আহমেদ। পরবর্তীতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে গুম, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি দেশত্যাগ করেন। সম্প্রতি দুবাইয়ে তাকে আটক করা হয়েছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিটি নতুন করে সামনে আসে।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ভুক্তভোগীদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি। এছাড়া সংসদ সদস্য তাসমিয়া প্রধান প্রশ্ন তোলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তা কার্যকর করা হয়নি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতি সরকারের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট জবাব প্রত্যাশা করে। আলোচনায় অংশ নেওয়া সদস্যরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মীদের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ইতালির ঘটনায় কনস্যুলার সহযোগিতার বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইতালি সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ যোগাযোগ করেছে এবং বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়েন বেনজীর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার প্রস্তাবকে সমর্থন জানান অন্য সংসদ সদস্যরাও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কাজে সরকারের যে সহযোগিতা প্রয়োজন, তা দিতে সংসদ ও দেশের মানুষ প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংসদে বেনজীরসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক ব্যক্তিদের বিষয়ে আলাদা একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাবও আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এই সেলের মূল কাজ হবে বিদেশে থাকা পলাতকদের শনাক্ত করা এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় মনোযোগ দেওয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রয়োজন অনুযায়ী কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কাজে সরকারের পাশে থাকার জন্য সংসদ সদস্যদের সহযোগিতাও চান তিনি।

