বাংলার লোকজ ঐতিহ্য, মাটি ও মানুষের জীবনবোধের নানা অনুষঙ্গকে উপজীব্য করে ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনে আয়োজিত হয়েছে লোকসংগীতের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘গান অবিরাম’। আজ শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের নিচতলায় শুরু হওয়া এই আয়োজনে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সংগঠক ও প্রাক্তনী অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সংস্কৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে ছায়ানট প্রাঙ্গণ।
লোকসংগীতের বহমান ধারাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাংলার প্রকৃতি, নদী ও মানুষের জীবনের নানা পর্যায় তুলে ধরা হয়। প্রেম-বিরহ, আধ্যাত্মিকতা এবং মাটির টানে রচিত কালজয়ী সব গানে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। অনুষ্ঠানে ‘আমার দেশের মতন এমন দেশ কি কোথাও আছে’, ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘নিশা লাগিল রে’ এবং ‘মিলন হবে কত দিনে’-এর মতো জনপ্রিয় গান পরিবেশন করা হয়। এছাড়া ‘পরের জাগা পরের জমিন’ ও ‘প্রাণ সখী রে, ওই শোন কদম্বতলে বংশী বাজায় কে’-এর মতো গানেও সুরের মূর্ছনা ছড়িয়ে পড়ে।
লোকজ জীবনের সঙ্গে নদী ও প্রকৃতির যে নিবিড় সম্পর্ক, তা আয়োজনের প্রতিটি গানে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ‘কলকল ছলছল নদী করে টলমল’, ‘গান গাই আমার মনরে বুঝাই’ ও ‘বাউলা কে বানাইল রে’—এমন সব পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলার লোকজ সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও মানুষের অন্তর্গত আবেগ প্রকাশ পায়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে মাঝি-মাল্লারা জীবনের অভিজ্ঞতায় গাওয়া ‘নোঙর ছাড়িয়া নায়ের দেরে দে মাঝি ভাই’ গানটি পরিবেশন করেন। একটির পর একটি লোকগানে জমে ওঠা এই অনুষ্ঠানটি লোকসংগীতের চর্চার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক আনন্দঘন পরিবেশ ও সম্প্রীতির সুর ছড়িয়ে দেয়।

