মার্কিন মন্ত্রিসভার রদবদলের গুঞ্জন নাকচ করল হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে রদবদলের গুঞ্জন জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে হোয়াইট হাউস সরাসরি এসব গুঞ্জনকে ‘ভুয়া খবর’ বলে নাকচ করে দিয়েছে।

প্রশাসনের ভেতরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ তৈরির নেপথ্যে ইরান যুদ্ধের প্রভাবকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির জন্য এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে দায়ী করছে অনেকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার ঘোষণা দিয়েছেন এবং পলিটিকোকে জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই তিনি এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করবেন।

তবে নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিশংসন উদ্যোগকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন, তারা আমাকে আক্রমণ করে। তারা আমাদের আক্রমণ করে কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম। এটা কাজে আসবে না, আমরা পিছু হটব না।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, একজন অসন্তুষ্ট ও পরাজিত কংগ্রেস সদস্য ডেমোক্রেট মিত্রদের নিয়ে ব্যক্তিগত ধ্বংসের রাজনীতি করছেন। নিজের কর্মকাণ্ডের সমর্থনে তিনি জানান, তার নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করা এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নসহ প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি পুনর্গঠনে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডেমোক্রেটদের সমালোচনা করে হেগসেথ বলেন, তাদের নীতি কার্যকর নয়। তবে অভিশংসনের উদ্যোগের জবাবে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। আর যখন তারা বলে যে তিনি চাকরি ছাড়তে যাচ্ছেন, তখন আমি সব সময় হেসে বলি, কোন চাকরি। এ পরাজয়ের ফলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্রেটদের হাতে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করতে পারেন—এমন ধারণাকেও দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করাই তার মূল পরিকল্পনা ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি।’ এছাড়া হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এ ধরনের প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, হেগসেথকে নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ফোন এলেও তাকে স্বপদে বহাল রাখার ব্যাপারে তার ‘পূর্ণ ইচ্ছা’ রয়েছে। ট্রাম্প বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সামনে পিট হেগসেথের প্রশংসা করে বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’ এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হেগসেথের সফল ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, সিনেটে বিকল্প প্রার্থীদের অনুমোদন করিয়ে নেয়ার সুযোগ থাকতেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

এদিকে, ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ট্রাম্প জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও বিবেচনা করতে পারেন। কারণ গত আট মাস ধরে এই দুই কর্মকর্তা ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। অন্যদিকে, ম্যাসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেছেন যে, জানুয়ারি মাসে ডেমোক্রেট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। এছাড়া টেনেসির শূন্য সিনেট আসনে হেগসেথের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা চলছে। তবে হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক বেশি। এ কারণে রাজনৈতিক নাটক ও প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার চেষ্টায় তারা ব্যস্ত।