ম্যাচ অনুশীলনের অভাবই হারের কারণ, আক্ষেপ হকি কোচের

এশিয়ান গেমস হকি টুর্নামেন্টের শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি বাংলাদেশ দলের জন্য। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হার দিয়ে আসর শুরু করেছে জিমি-রোমানরা। নাগোয়া থেকে প্রায় ৩৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন হকি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধের কিছুটা সময় লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত কোরিয়ার দাপটের কাছে অসহায় ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকেই মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বিশ্বের ২৩তম দলটি, যারা একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। তৃতীয় ও চতুর্থ কোয়ার্টারে আরও দুটি গোল হজম করায় বড় ব্যবধানের হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় লাল-সবুজ জার্সিধারীদের।

ম্যাচ শেষে হারের পেছনে পর্যাপ্ত অনুশীলনের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ হকি দলের কোচ গেরহার্ড পিটার। তিনি জানান, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির জন্য তার পরিকল্পনা ছিল জার্মানি সফর। সেখানে তিন সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং ১৬টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার লক্ষ্য ছিল তার। তবে শেষ পর্যন্ত ভিসা জটিলতায় সেই সফর বাতিল করতে হয়। পরবর্তীতে চীনে সাত দিনের একটি ক্যাম্প করা হলেও তা এশিয়ান গেমসের মতো উচ্চমানের টুর্নামেন্টের জন্য যথেষ্ট ছিল না। কোচের মতে, পর্যাপ্ত ম্যাচ অনুশীলনের অভাবেই ছেলেরা ছোটখাটো ভুল করেছে এবং গোল করার সুযোগগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ম্যাচটিতে গোল করার বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন পুস্কর খীসা মিমো ও দ্বীন ইসলাম ইমন। এছাড়া দলের বিশেষজ্ঞ খেলোয়াড় আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামরা একাধিক পেনাল্টি কর্নারের সুযোগ পেয়েও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেননি। শেষ কোয়ার্টারে বাংলাদেশ কিছুটা গুছিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করলেও কোরিয়ার গোলমুখ খোলা সম্ভব হয়নি।

এত বড় ব্যবধানে হারলেও নিজের লক্ষ্যের বিষয়ে অনড় গেরহার্ড পিটার। তিনি বলেন, এখানে হারলেও আমি আমার লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি। টুর্নামেন্টের শেষ দিকে আমরা পাঁচ-ছয় নম্বরে থাকতে চাই। জাপান ম্যাচের আগের সময়টাকে প্রস্তুতির সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। কোচ মনে করছেন, হারের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে সামনের ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করা সম্ভব।