ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত মর্যাদাপূর্ণ ‘কমনওয়েলথ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এ আবারো শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ধরে রেখেছে বাংলাদেশ দূতাবাস রোম ক্রিকেট দল। প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ না হেরে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে দলটি। এটি টুর্নামেন্টে তাদের টানা চতুর্থ শিরোপা জয়।
টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে ইউনাইটেড নেশনস বা জাতিসংঘ ক্রিকেট দলের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ফাইনালে ব্যাট-বল ও ফিল্ডিংয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা। তাদের এই সমন্বিত পারফরম্যান্সের কাছে পরাজিত হয় জাতিসংঘ দল। এই আসরে তৃতীয় স্থান দখল করেছে শ্রীলঙ্কা দূতাবাস ক্রিকেট দল এবং চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ইউএনআই ক্যাসিনো ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট দল। গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি ও আইসিটিতে ২ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ব্র্যাক ব্যাংক। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ দূতাবাস। পুরো আসরে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সমন্বিত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দলগুলোর ওপর আধিপত্য বজায় রাখে তারা। মন্ত্রিসভায় ভ্যাট রিটার্নের খসড়া চূড়ান্ত।
বাংলাদেশ দলের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও রোমে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটি এম রকিবুল হক উচ্ছ্বাস ও গর্ব প্রকাশ করেছেন। বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, কমনওয়েলথ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তিনি উল্লেখ করেন, ইতালিতে ফুটবলের ব্যাপক জনপ্রিয়তা থাকলেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে দেশটিতে ক্রিকেটের প্রসার বাড়ছে। রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বাংলাদেশ দূতাবাস সবসময়ই এ ধরনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফাইনাল শেষে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ও উদ্যাপনে মুখর হয়ে ওঠে টুর্নামেন্ট প্রাঙ্গণ। বাংলাদেশ দূতাবাস সবসময়ই প্রবাসীদের খেলাধুলা ও তরুণদের উদ্যোগকে উৎসাহিত করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগে আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত এই বিজয়ের আনন্দ ইতালিতে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন।
ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জাতিসংঘ দলের অধিনায়কও বাংলাদেশ দলের খেলার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি জানান, টুর্নামেন্টের প্রতিটি দলই দর্শকদের দারুণ প্রতিযোগিতা উপহার দিয়েছে। আয়োজক কমিটির মতে, কমনওয়েলথ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট মূলত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রবাসী কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ দলের এই ধারাবাহিক সাফল্য ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এবং ইতালির স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে এই জয় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

