জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে কীভাবে জ্বালানি সংকটের সমাধান হয়েছে, সেই প্রক্রিয়ার ওপর স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির প্রথম বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও মূল্য নির্ধারণী কৌশলের ওপর বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছা. তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা চলাকালে সংসদীয় কমিটি জানতে চায়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটকালীন এবং তার পরবর্তী সময়ে একই থাকা সত্ত্বেও কেবল মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সংকট নিরসনের যৌক্তিকতা কী। এ সময় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি’র ভূমিকা, অতীতে জ্বালানি পণ্যের মূল্য সমন্বয় এবং মূল্য পরিবর্তনের কারণগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট তৈরির প্রেক্ষাপট নিয়েও কমিটি প্রশ্ন তোলে।
কমিটি জনগণের স্বার্থে জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, বিদ্যমান সংরক্ষণ সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গৃহীত প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

