লানা নুসেইবেহর নাম নিয়ে জাতিসংঘে নতুন চর্চা: যুক্তরাজ্যের অবস্থান কী?

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে কে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মধ্যে নানা সমীকরণ চলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাবশালী কূটনীতিক লানা নুসেইবেহর নাম সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম হয়েছে। তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। ঢাকায় প্রথমবারের মতো বাংলা-ফরাসি অপেরার মেলবন্ধন, শুরু হচ্ছে ১১ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও না এলেও, ভেতরের খবর হলো— আমিরাতের এই প্রার্থীর দিকেই বেশি ঝুঁকছে ব্রিটিশ সরকার।

সুদান সংঘাত ও বিতর্কের ছায়া

লানা নুসেইবেহর প্রার্থিতার বিষয়টি বিতর্কমুক্ত নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল অসন্তোষ রয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারী দলগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের কুখ্যাত আধাসামরিক বাহিনী ‘র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’ বা আরএসএফ-কে আমিরাত সহায়তা দিয়ে আসছে। এই বাহিনীর কর্মকাণ্ডে ‘গণহত্যার’ সুস্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত বরাবরই এসব অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। এমনকি জাতিসংঘের তদন্তকারীরাও জানিয়েছেন, এই বাহিনীর চালানো নারকীয় হত্যাকাণ্ডে ‘গণহত্যার’ সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের কৌশলগত অবস্থান

এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই লানা নুসেইবেহর বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্যমতে, বর্তমান বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জ ও অস্থিরতা মোকাবিলা করার সক্ষমতাসম্পন্ন একজন যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সম্ভাব্য সমর্থনের পেছনে লন্ডনের সাথে আবুধাবির বিদ্যমান সম্পর্কের সমীকরণ বড় ভূমিকা রাখতে পারে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্যের এই সমর্থন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও ফুটবলের প্রভাব

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য ও আমিরাতের মধ্যে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

এর একটি বড় কারণ ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মালিকানাধীন এই ফুটবল ক্লাবের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ ১১৪টি নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্লাবটি প্রায় ৮৩ কোটি পাউন্ড বা ১১০ কোটি ডলারের অবৈধ অর্থায়ন গোপন করেছে। যদিও ম্যানচেস্টার সিটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে প্রিমিয়ার লিগের এই কঠোর অবস্থানের কারণে আমিরাত প্রশাসন বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

  • জাতিসংঘের শীর্ষ পদে লানা নুসেইবেহর প্রার্থিতা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।
  • সুদানে গণহত্যার অভিযোগের কারণে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
  • যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের লক্ষ্য হলো বর্তমান বিশ্ব সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া।
  • ম্যানচেস্টার সিটির আর্থিক কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো লন্ডন-আবুধাবি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।