পর্তুগালের লিসবনে আয়োজিত ‘নোটিসিয়াস বাংলা’র এক প্রাণবন্ত সন্ধ্যায় হাজির হয়েছিলেন দিদারুল ইসলাম ও মাসুদুর রহমান। সেই অনুষ্ঠানে তাদের সাথে আনা সুস্বাদু কেকটি ছিল উপস্থিত অতিথিদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সরব উপস্থিতিতে কেকটির স্বাদ ও উপস্থাপনা বেশ প্রশংসিত হয়। বর্তমানে লিসবনে অনেক বাংলাদেশি শখ, ব্যবসা কিংবা সৃজনশীলতার প্রকাশ হিসেবে কেক তৈরির উদ্যোগ নিলেও ‘নভোমিলস বাই মুক্তা’ (NovoMeals by Mukta) তার ভিন্নধর্মী কাজের মাধ্যমে সবার নজর কেড়েছে।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে থাকা কুমিল্লার মেয়ে মুক্তা পারভিন মূলত কাস্টমাইজড কেক তৈরিতে বিশেষ দক্ষ। জন্মদিন, বিয়েবার্ষিকী কিংবা বিশেষ কোনো উৎসবের আমেজ বুঝে গ্রাহকের রুচি অনুযায়ী তিনি কেকের নকশা তৈরি করেন। তার ফন্ড্যান্টের কাজ এবং সূক্ষ্ম ডিজাইনের মুন্সিয়ানা যেকোনো উৎসবকে আরও রঙিন করে তোলে। একজন কেক শিল্পী হিসেবে মুক্তার মূল লক্ষ্য থাকে প্রতিটি কেককে গ্রাহকের প্রত্যাশা অনুযায়ী রূপ দেওয়া, যেখানে ডিজাইনের পাশাপাশি সৃজনশীলতার প্রতিফলন ঘটে।
স্বাদের ক্ষেত্রেও ‘নভোমিলস বাই মুক্তা’র নিজস্বতা বজায় থাকে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করে তাজা উপকরণ দিয়ে তৈরি এসব কেক এখন লিসবনের ভোজনরসিকদের কাছে সমাদৃত। চকোলেট ট্রাফলের সমৃদ্ধ স্বাদ থেকে শুরু করে ভ্যানিলা, রেড ভেলভেট কিংবা তাজা ফলের ফ্রুটি কেক—প্রতিটি আইটেমেই স্বাদের চমৎকার ভারসাম্য বজায় থাকে। অতিরিক্ত মিষ্টির পরিবর্তে স্বাদের ভারসাম্য রক্ষায় মুক্তার নিপুণ কৌশল তাকে অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা করেছে।
কেক তৈরির প্রতিটি প্রক্রিয়ায় মুক্তার নিষ্ঠা ও বিস্তারিত বিষয়ের প্রতি গভীর মনোযোগ ক্রেতাদের মনে বেশ প্রভাব ফেলেছে। লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এখন যেকোনো শুভ অনুষ্ঠান আয়োজনে ‘নভোমিলস বাই মুক্তা’কে প্রথম সারির পছন্দ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। একজন দক্ষ শিল্পী হিসেবে তার এই পথচলা এখন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে বেশ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

