সাতক্ষীরায় ২৮০টি মৌ-বাক্স পুকুরে ফেলে ধ্বংস

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আমবাগানে রাখা ২৮০টি মৌ-বাক্স রাতের আঁধারে পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এতে রানি মৌমাছিসহ বিপুল পরিমাণ মৌমাছি, মৌচাক ও মধু নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, এতে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে এবং তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় তিনি কলারোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম শ্যামগঞ্জ উপজেলার হরিণনগর গ্রামের বাসিন্দা। গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি মাগুরা জেলা থেকে রানি মৌমাছি সংগ্রহ করে কলারোয়ার মীরডাঙ্গা গ্রামে আসেন। সেখানে ইমামুল ইসলামের আমবাগানে অস্থায়ী মৌ-খামার স্থাপন করে তিনি ২৮০টি বাক্স সাজিয়ে নিবিড় পরিচর্যা ও পাহারা দিয়ে আসছিলেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতের কোনো একসময়ে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাক্সগুলো পাশের দুটি পুকুরে ফেলে দেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি জানান, প্রতিটি বাক্সে থাকা মৌমাছির বাজারমূল্য অনুযায়ী ২৮০টি বাক্সের মৌমাছির দাম প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে খাদ্য ও পরিচর্যা বাবদ আরও আড়াই লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছিল। শত্রুতা করে তার জীবিকার এই পথ চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সকালে স্থানীয়রা জমিতে এসে মৌ-বাক্সগুলো পানিতে ভাসতে দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বাংলাদেশ বিকিপার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ আফজাল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারী যেই হোক না কেন, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান রিমু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভুক্তভোগী এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় আনুমানিক ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন জাহাঙ্গীর আলম নামের এক মৌচাষি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার হরিণনগর গ্রামের মৌচাষি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম গত ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মাগুরা জেলা থেকে রাণি মৌমাছি নিয়ে মধু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার রাতে কলারোয়া উপজেলার মীরডা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ১২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১:০০ টা থেকে ভোর ৬:০০ টার মধ্যে যেকোনো সময় অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমবাগানে থাকা মৌমাছির ২৮০টি বাক্স পাশের দুটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্ষতিগ্রস্থ মৌচাষি জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে জানান, শুক্রবার সারাদিন আমি আম বাগানে আমি যখন মৌ বাক্স গুলো সেখানে স্থাপন করলাম তখন কেউ আমাকে কিছু বলি নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপর শনিবার সকালে উঠে দেখি আমার সব মৌবাক্স পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।