ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভিতরে জুয়া খেলার অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুই পুলিশ সদস্যের নাম প্রকাশ করেছেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা। তাদেরকে পলাতক দেখিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে থানায় এই এজাহার দাখিল করেন।
গ্রেপ্তার চারজন হলেন—ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), একই কার্যালয়ে কর্মরত এএসআই শান্ত কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদাত জামান (৩৪)। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও দুই পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার কথা জানান। তারা হলেন—পঞ্চগড় জেলা পুলিশে কর্মরত এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মরত কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। এজাহারে তাদের পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি ৫০ টাকার নোট, জুয়ার তাস এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন। এজাহারে বলা হয়, জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলোর মধ্যে সিমযুক্ত ও সিমবিহীন বিভিন্ন কোম্পানির বাটন ও অ্যান্ড্রয়েড ফোন রয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত থেকে ঠাকুরগাঁও সদর থানার একটি দল রাত্রীকালীন মোবাইল-১ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিল। পরে রাত ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংবাদ পাওয়া যায় যে, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতরে একটি ভবনে কয়েকজন পুলিশ সদস্য টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলছেন।
সংবাদ পেয়ে এসআই মো. লিখন হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এ সময় মোবাইল-১ ও মোবাইল-৪ ডিউটিতে ব্যবহৃত গাড়ি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ভেতরে নিরাপদ স্থানে রেখে তারা পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রাত প্রায় ৪টা ১০ মিনিটে সেখানে পৌঁছে উপস্থিতি টের পাওয়ার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য পালানোর চেষ্টা করেন এবং ওই চারজনকে আটক করা হয়। তারা সবাই বিভিন্ন সময়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন জানান, কিছু বিপদগামী পুলিশ সদস্যের জুয়া খেলার সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার পর সত্যতা যাচাই করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যে নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
