লঙ্কাকে উড়িয়ে অষ্টম এশিয়া কাপ জিতল ভারত

দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে শক্তিশালী ভারত। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের পাহাড় গড়ে তারা। জবাবে ভারতীয় বোলারদের তোপে পড়ে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। এই জয়ের ফলে পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে রেকর্ড অষ্টম বারের মতো এশিয়ান শিরোপা ঘরে তুলল টিম ইন্ডিয়া।

দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াইয়ে বরাবরের মতোই আধিপত্য ধরে রাখল ভারত। এ নিয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলা ৩২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ২৬টিতেই জয় পেল তারা, যেখানে লঙ্কানদের জয় মাত্র ৫ ম্যাচে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়।

এদিন ১৮৪ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। দলীয় মাত্র ৪ রানেই ওপেনার ইমেশা দুলানিকে বোল্ড করে ভারতকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন ক্রান্তি গৌড়। শুরুর এই ধাক্কা সামাল দিতে ক্রিজে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ও বিশমি গুণরত্নে। ধীরগতিতে শুরু করলেও উইকেটে থিতু হয়ে রান তোলার গতি বাড়ান তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের আশা দেখাচ্ছিলেন এই দুই ব্যাটার।

লঙ্কান ব্যাটারদের মধ্যে চামারি ছিলেন বেশি আক্রমণাত্মক। ৩২ বলে ৩৬ রান করার পথে তিনি চারটি চার ও দুটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকান। তবে লঙ্কান শিবিরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন দীপ্তি শর্মা। দীপ্তির ফ্লাইটেড বলে প্রলুব্ধ হয়ে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন চামারি, কিন্তু বলের লাইন মিস করায় উইকেটরক্ষক রিচা ঘোষ বিদ্যুৎ গতিতে বেল ফেলে দিয়ে তাকে স্টাম্পড করেন।

অধিনায়কের বিদায়ের পরই শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনে ধস নামে। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে লঙ্কান মিডল অর্ডার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। চামারিকে ফেরানোর তিন বল পরেই বিশমি গুণরত্নেকে নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করেন দীপ্তি শর্মা। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে লঙ্কানরা।

মাঝে হর্ষিতা সামারাবিক্রমা ও নীলাক্ষী ডি সিলভা ২৩ রানের একটি ছোট জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শ্রী চারণীর বিধ্বংসী স্পেলের মুখে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। চারণী একাই লঙ্কান মিডল ও লোয়ার অর্ডারের চার ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠান। হর্ষিতাকে নিজের ক্যাচে পরিণত করার পর তিনি নীলাক্ষী ও কবিশা দিলহারিকে যথাক্রমে কমলিনী ও নিধির ক্যাচে পরিণত করেন। নিজের চতুর্থ শিকার হিসেবে সুগন্ধিকা কুমারীকে আউট করে লঙ্কানদের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন চারণী।

এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে ভারতীয় ওপেনারদের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে লঙ্কান বোলিং লাইনআপ। পাওয়ারপ্লের ফায়দা তুলে ১০ ওভারেই বিনা উইকেটে ৯৮ রান তোলে ভারত। শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা শুরু থেকেই মারকুটে ব্যাটিং করতে থাকেন। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে শেফালি একাই ২০ রান আদায় করেন, যার মধ্যে ছিল দুটি ছক্কা ও একটি চার। অবশ্য ষষ্ঠ ওভারে সুগন্ধিকা কুমারী মাত্র ২ রান দিলে পাওয়ারপ্লে শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৭/০।

পাওয়ারপ্লের পর ফিল্ডিংয়ের সীমাবদ্ধতা শিথিল হলেও ভারতীয় ব্যাটারদের রান তোলার গতি কমেনি। পরবর্তী ৬ ওভারে আরও ৬৪ রান যোগ করেন এই দুই ওপেনার। এ সময় স্মৃতি কিছুটা শান্ত থাকলেও শেফালি ছিলেন অতি আক্রমণাত্মক। সপ্তম ওভারে তিনি ১২ রান তোলেন এবং পরের ওভারে মাত্র ২৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন।

২৪ বলে ফিফটি ছোঁয়ার মাধ্যমে শেফালি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৩৬তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের ইতিহাসে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। এর আগের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ডটি ছিল স্মৃতি মান্ধানার, যিনি ২০২২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই ২৫ বলে ফিফটি করেছিলেন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম পাঁচটি অর্ধশতকের রেকর্ডই ভারতীয় ব্যাটারদের দখলে, যার মধ্যে তিনটিই একাই করেছেন শেফালি। অপর প্রান্তে স্মৃতি মান্ধানাও চামুদি প্রবোধাকে ছক্কা মেরে ওভারে ১৩ রান তুলে নিজের মারকুটে রূপ প্রদর্শন করেন।