শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের একমাত্র টেস্টে জয় হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও মাত্র দুই উইকেটের বাধা অতিক্রম করতে পারেনি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দিনশেষে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক আফগানিস্তান ম্যাচটি ড্র করতে সক্ষম হয়। শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে ২ উইকেটের দূরত্বে আটকে যায় বাংলাদেশের জয়। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে টিকে ছিলেন সেদিকউল্লাহ আতাল।
ম্যাচের তৃতীয় সেশনে আফগানিস্তান ৬ উইকেটে ২৬৫ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে। জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ওপেনার সিদিকুল্লাহ অটল। দীর্ঘ সময় ক্রিজে থেকে তিনি ৩৩২ বলে ১১১ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। শেষ পর্যন্ত স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে দুর্দান্ত ক্যাচ আউটের মাধ্যমে তিনি সাজঘরে ফেরেন। ম্যাচে এটিই ছিল তাইজুলের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বাংলাদেশজয় বঞ্চিত হলো আফগান ওপেনার সিদিকুল্লাহ অটলের মহাকাব্যিক শতরানের ইনিংসের মাধ্যমে।
অটলের বিদায়ের পর ইয়ামিন আহমেদজাই এবং কাইস আহমেদ মিলে শেষদিকে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সলিড ডিফেন্সে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা এই জুটিকে ভাঙতে হিমশিম খেতে হয়েছে টাইগার বোলারদের। একপর্যায়ে মেহেদী হাসান মিরাজ ৮৫ বলে ১৯ রান করা ইয়ামিনকে আউট করে কিছুটা আশা জাগিয়েছিলেন। তবে কাইস আহমেদের দৃঢ়তা আর ভাঙা যায়নি। কাইস ৮০ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে দিন পার করে দেন। ১৪২ ওভার শেষেও আফগানদের অলআউট করতে পারেনি বাংলাদেশ। ১৪২ ওভারেও অলআউট হয়নি আফগানরা।
ম্যাচে বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন চৌধুরী ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন। এছাড়াও হাসান মাহমুদ এবং তাইজুল ইসলাম একটি করে উইকেট পেয়েছেন। পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন লিটন দাস। সব মিলিয়ে শেষ সেশনে লড়াই জমিয়ে তুললেও লোয়ার-অর্ডারের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে সফরকারীদের। পরে দারুণ এক ডেলিভারিতে অবশেষে তাকে ফিরিয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

