সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল ভারত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে রাজপথে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বাই থেকে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলনের সূচনা করা হবে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপক এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর আগের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছিল।

সিজেপির এই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতায় সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে কংগ্রেস ও বামপন্থী সংগঠনগুলো। মূলত ভোটার তালিকার সংক্ষিপ্ত সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করেছে। কলেজ স্ট্রিটে আয়োজিত কংগ্রেসের সমাবেশে দলের সাবেক রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে কেবল পদ থেকে সরালেই হবে না, বরং তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের নাম দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এসআইআর প্রক্রিয়াকে ত্রুটিপূর্ণ উল্লেখ করে তা বাতিল এবং পুরনো ভোটার তালিকা পুনর্বহালের দাবি তুলেছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করে শাসক দল বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও সিইসির অপসারণ ও পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কমিশনের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অবস্থানের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কমিশন মনে করে, ভোটে কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বিরোধীদের জন্য একটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান। এনডিটিভি ও এবিপি নিউজের তথ্যানুসারে, এই বিতর্কিত ভোটার তালিকা নিয়ে দেশজুড়ে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।