৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে আগুন

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় আবারও রাজপথে নেমেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার সকাল থেকে পোশাকশ্রমিকদের এই বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। আন্দোলন চলাকালে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা মহাসড়কের ওপর থাকা একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেন। কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, আন্দোলনকারীরা পুলিশ বক্সের ভেতরে থাকা সরঞ্জাম বাইরে এনে অগ্নিসংযোগ করেন। কোনাবাড়ীতে একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর তাঁরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিক্ষোভের কারণে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া জানান, সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকার বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা রাস্তায় নেমে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে জোরালো স্লোগান দেন। কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, ভোর থেকেই শ্রমিকেরা মহাসড়ক দখল করে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ ও আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরদিন রোববার সকালে কালিয়াকৈরের রতনপুর অঞ্চলের করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মূল সড়কে অবস্থান নেন। আইসিসিবিতে জাপানি গাড়ির ৫০ বছরের ইতিহাস নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী।

শিল্পাঞ্চলের একাধিক পয়েন্টে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মহাসড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা। বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ: জার্মান এমপি আরমান্ড জর্নের উদ্বেগ।