দুই সপ্তাহেও কাটেনি গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প ও আবাসিক খাত

দেশজুড়ে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনাল, স্থানীয় পর্যায়ে গ্যাস উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২ হাজার ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই সরবরাহ ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট থাকে। দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট হওয়ায় বর্তমানে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

দেশের বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের উৎপাদনও বর্তমানে নিম্নমুখী। চলতি বছরের মার্চের শুরুতে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ৮১৫-৮২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও জুলাইয়ের শেষ দিকে তা প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এটি কবে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না। এছাড়া পুরোনো গ্যাসকূপগুলো থেকেও প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না এবং এলএনজি আমদানিতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০ দশমিক ৬০ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা ২১ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অভাবের ফসল। স্বল্পমেয়াদে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আমদানি করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সরকার সংকট মোকাবিলায় ১০০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন, নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি এবং ভোলার গ্যাস রাজধানী অঞ্চলে সরবরাহের জন্য ক্রায়োজেনিক আইএসও ট্যাংক ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, ফলে শিল্প ও আবাসিক খাতের চলমান সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা আপাতত সীমিত।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত