জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত কোনো শক্তির এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া প্রয়োজন। তবে তিনি জানান, সরকার কোনো নির্বাহী আদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নয়। বরং তাদেরকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতই নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ পরিণতি কী হবে।
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও আলোচনাসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানে আয়োজন করা হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই অভ্যুত্থান একদিনে হয়নি, বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপির ছাত্রদল, যুবদলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সব কর্মীর দীর্ঘদিনের ত্যাগের ফসল। তিনি বলেন, যখন কোনো আন্দোলনকে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চলতে দেওয়া হয় না, তখনই সহিংস ও রক্তাক্ত আন্দোলনের পথ অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশে ঠিক সেটাই ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর জুলাই অভ্যুত্থানকে নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর দাবি করা উচিত নয়। তিনি শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা এখন দিল্লিতে অবস্থান করছেন। তার মতে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু ঢাকায় হয়েছে এবং তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে।
জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংস্কার কমিশন ও রাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সংসদে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী গ্রহণ করা জরুরি। তিনি এটিকে শতাব্দীর সবচেয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনী হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এমন একটি সংবিধান সংশোধন করতে চাই যা নিয়ে দীর্ঘ সময় চলা সম্ভব। গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে আমরা সারা জীবন দায়ী থাকব। এছাড়া ইলিয়াস আলীসহ গুম হওয়া অসংখ্য মানুষের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। সবশেষে তিনি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলকে একসঙ্গে বসার আহ্বান জানান।

