ইনফান্তিনোর পাশে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো, ফিফা সভাপতির ওপর আস্থা

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনার জেরে ইনফান্তিনো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও এই দুই দেশ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে, তবুও ফিফা সভাপতির ওপর আস্থা হারানোর গুঞ্জন থামেনি। এর মধ্যেই তাঁকে সরানোর যেকোনো উদ্যোগের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন।

২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশন (এফএমএফ) তাদের আঞ্চলিক সংস্থা কনক্যাকাফের অবস্থান থেকে সরে এসে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে কনক্যাকাফ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক জবাবদিহি দাবি করেছিল। এফএমএফ এক বিবৃতিতে জানায়, ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোট ছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়াকে তারা স্বীকৃতি দেবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সমর্থন করছে এফএমএফ। তারা সদস্যদেশগুলোর স্বার্থে ফুটবলের উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে গত এক দশকে ফিফার কার্যক্রমের প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, এ সময়ে ফিফা বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন এবং স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করেছে। যদিও এএফএ স্বীকার করেছে যে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবটি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে এবং এ ক্ষেত্রে ভুলও হয়েছে। তবুও তারা মনে করে, আগামী মার্চে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেস পর্যন্ত বর্তমান নেতৃত্বের অধীনেই কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত।

এর আগে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল জানিয়েছিল, ফিফার ২১১ সদস্য দেশের ভোট ছাড়া ইনফান্তিনোকে সরানোর কোনো উদ্যোগ তারা সমর্থন করবে না। তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে এবং ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। এদিকে ইংল্যান্ড ও আলবেনিয়ার পর ক্রোয়েশিয়া ফুটবল ফেডারেশনও ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। এছাড়া খেলোয়াড়দের বৈশ্বিক সংগঠন ফিফপ্রো এই প্রস্তাবকে সভাপতির ক্ষমতার গভীর অপব্যবহার বলে সমালোচনা করেছে। ফিফার দাবি, বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে সব পদক্ষেপ সংস্থার নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছিল এবং ভুল মূলত প্রক্রিয়া ও যোগাযোগে হয়েছে, প্রশাসনিক নীতিমালা লঙ্ঘনে নয়।

কন্টেন্ট: সংগৃহীত