২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স এবং তাদের জয় নিয়ে যেসব সমালোচনা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি সমালোচকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন।
বিশ্বকাপজুড়ে অভিযোগ ছিল যে, ফিফা আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে এবং রেফারির সিদ্ধান্তগুলো সব সময় তাদের অনুকূলে ছিল। এই প্রসঙ্গে তাপিয়া বলেন, কিছু মানুষ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের নিয়মিত জয় মেনে নিতে পারছে না, আর তাতেই তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, দেখে মনে হয় আর্জেন্টাইন মানুষের আনন্দিত থাকাটাই তাদের সহ্য হয় না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিটি ম্যাচেই যেন এক ধরনের চাল বা চক্রান্ত ছিল এবং দলের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তার মতে, গ্রুপ পর্বের পর প্রতিটি ম্যাচেই এমন ভাব দেখানো হয়েছে যেন বড় কোনো অমঙ্গল ঘটবে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা সীমালঙ্ঘন করছে, তারা কি আসলে নিজেদের জাতীয় দলের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করছে?
স্কালোনির অধীনে দলের অর্জনের প্রশংসা করে তাপিয়া বলেন, এই প্রকল্পটি প্রায় আট বছরের এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ আবার জাতীয় দলের খেলা নিয়ে আনন্দ করার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, এই জাতীয় দল শুধু আমার নয়, এটি সবার। সঠিক কোচ নির্বাচন এবং তার পাশে অবিচল থাকাকে তিনি নিজের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ের পর খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ডস ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তাপিয়া। তিনি বলেন, খেলোয়াড়রা এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত একটি কূটনৈতিক ইস্যুকে বিশ্বের এজেন্ডায় নিয়ে এসেছে। ত্রিশটিরও বেশি দেশের মানুষ জিজ্ঞেস করেছে—ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নাম যদি আর্জেন্টাইন (মালভিনাস) হয়, তবে কেন সেটিকে অন্য নামে ডাকা হয়?
ফিফার তদন্ত এবং সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা কিছু গণমাধ্যমে দেখেছিলাম যে এসব ব্যানার নিয়ে মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে ফিফার পক্ষ থেকে চার-পাঁচ দিন আগে একটি রিপোর্ট ছাড়া বিশেষ কিছু আমরা পাইনি। কোনো তিরস্কার বা সতর্কবার্তাও ছিল না। তিনি খেলোয়াড়দের এই পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, আপনি যদি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ওই ম্যাচটি খেলতেন এবং মানুষ যদি সেই পতাকার মাধ্যমে আপনাদের কাছে অনুভূতি প্রকাশ করত, তবে আপনি কি এটি মাটিতে ফেলে দিতেন নাকি উঁচিয়ে ধরতেন? আমি অবশ্যই উঁচিয়ে ধরতাম, কারণ আমরা আর্জেন্টাইন এবং আমরা এ নিয়ে গর্বিত।

