সৌদি আরবের ওপর উত্তর ও দক্ষিণ—দুই দিক থেকে সমন্বিত হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে ইরাকি মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা যৌথভাবে এই হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। বৃহস্পতিবার রাতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর এবং বিমানবন্দর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ লক্ষ্য করেছে যে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যা দুই দিক থেকে সমন্বিত হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার জন্য সৌদি আরব প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিরল সতর্কবার্তাটি উপসাগরীয় অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহে বাড়তে থাকা সংঘাতের ঝুঁকিকেই স্পষ্ট করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি এবং ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরব। জুলাইয়ের শেষ দিকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই ইরাকি মিলিশিয়াগুলো সৌদি আরবে প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন দফায় হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে শুক্রবার মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্র জানিয়েছে, এই চুক্তির মাধ্যমে প্রধান তিনটি সুন্নি মুসলিম শক্তির মধ্যকার জোট আরও সুদৃঢ় হবে।

