ফ্রান্সের প্যারিসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা ই-পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী এক জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। পাসপোর্ট সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ‘আরডিভি’ পাওয়ার আশায় প্রতিদিন দূতাবাসের সামনে ভিড় করছেন শত শত প্রবাসী। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর থেকে আসা এসব মানুষের অভিযোগ, অনলাইনে দিনের পর দিন চেষ্টা করেও তারা কাঙ্ক্ষিত অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করার পরও সেবা না পাওয়ায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে। ফান্সের প্যারিসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ই-পাসপোর্ট সেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা এবার চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। কারও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট প্রয়োজন।
পাসপোর্ট পাওয়ার এই অনিশ্চয়তাকে অনেক প্রবাসী ‘সোনার হরিণ’ পাওয়ার চেষ্টার সাথে তুলনা করছেন। আহমেদ জামিল নামে একজন ভুক্তভোগী জানান, তিনি প্রায় ৩ মাস অপেক্ষা করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট হাতে পেয়েছেন। অনেকের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে, আবার কেউ ফরাসি প্রশাসনের জরুরি কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না, ফলে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। আমি প্রায় ৩ মাস অপেক্ষা করে পাইছি, আরও এক মাস পরে। কিন্তু বাস্তবে চাহিদা অনেক বেশি হওয়ায় এই সংখ্যাও পর্যাপ্ত হচ্ছে না।
এই সংকটকে কেন্দ্র করে নতুন করে কিছু গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রবাসীদের একাংশ দাবি করছেন, অর্থের বিনিময়ে অনৈতিকভাবে ই-পাসপোর্টের আরডিভি পাওয়া যাচ্ছে। হাসান রকিবুল নামের একজন জানান, তার পরিবারের একজন সদস্য ১৪০ ইউরো দিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সংগ্রহ করেছেন। আবার সাইফুর রহমান নামে আরেক প্রবাসীর ভাষ্যমতে, তার পরিচিত একজন জানিয়েছেন ১০০ ইউরো দিলেই নাকি আরডিভি মিলে। এসব মন্তব্যের মাধ্যমে তারা পাসপোর্ট অফিসের ভেতরেই অনিয়মের সাথে জড়িত চক্র থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যে হাসান রকিবুল নামে একজন লিখেছেন, তার জানা মতে অনেকে টাকা দিয়ে আরডিভি নিচ্ছেন।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দূতাবাস সাধ্যমতো সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বর্তমানে তারা দৈনিক ৮০ থেকে ৯০টি অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তবে পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের যে বিপুল ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, সে তুলনায় এই সক্ষমতা যথেষ্ট নয় বলে তিনি স্বীকার করেন।
কর্মকর্তাটি আরও বলেন, ‘সবাইকে একই মুহূর্তে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা কেবল যাদের পাসপোর্টের জন্য అత్యন্ত জরুরি প্রয়োজন রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’ তিনি প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান যে, ফ্রান্সের অফিস-আদালতের মতো এখানেও যদি সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা গ্রহণের সংস্কৃতি বজায় থাকে, তবে প্রতিদিন প্রায় ২০০ জনকে সেবা দেওয়া সম্ভব হতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা যদি ফ্রান্সের অফিস-আদালতে যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে সেবা নেন, সেভাবে দূতাবাসেও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন, তাহলে দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন পর্যন্ত সেবা দেয়ার চেষ্টা করা সম্ভব হতে পারে।’।
দূতাবাসের ভাষ্যমতে, যাদের এই মুহূর্তে পাসপোর্টের জরুরি প্রয়োজন নেই, তারা পরবর্তীতে সেবা নিলে বর্তমান চাপের মাত্রা কিছুটা কমবে। সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য শুধু সাময়িক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, বরং সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনায়।

