অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৬ উইকেট শিকারের রহস্য জানালেন হাসান মাহমুদ

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়েছেন হাসান মাহমুদ। তিন সংস্করণের ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের কোনো বোলারের প্রথম ৫ উইকেট সংগ্রহের অনন্য কীর্তি। হাসানের বিধ্বংসী বোলিংয়ে প্রথম দিনেই অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট হয়। নিজের বোলিংয়ের শুরুতেই জেক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডের উইকেট তুলে নেন তিনি। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে সাজঘরে ফেরান। চা বিরতির পর স্টিভ স্মিথ ও নাথান লায়নকে আউট করে নিজের ৬ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার। এর আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা তিন, রুবেল হোসেন ও তাসকিন আহমেদ চার উইকেট করে নিয়েছিলেন।

দিন শেষে নিজের এই সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসান বলেন, সকালের দিকে উইকেটে কিছুটা আর্দ্রতা ও নরম ভাব ছিল, যা থেকে তিনি সিম মুভমেন্ট পাচ্ছিলেন। দলের সবার সমর্থন এবং তাসকিন ও ইবাদতের দুর্দান্ত বোলিংয়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কঠোর অনুশীলনের সুফলই আজ মাঠে দেখা গেছে। স্মিথকে আউট করার কৌশল নিয়ে তিনি জানান, স্মিথ বল ঠিকভাবে বুঝতে পারছিলেন না, তাই বাউন্সার দিয়ে তাকে পরাস্ত করা হয়েছে। প্রতিটি উইকেটই তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সমর্থন এবং সতীর্থদের ফিল্ডিং প্রচেষ্টাকে নিজের সাফল্যের বড় অংশীদার মনে করেন হাসান। এছাড়া সতীর্থদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে একপাশ থেকে রানের গতি আটকে রাখা সম্ভব হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ম্যাচ চলাকালীন ট্রাভিস হেডের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টিও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন হাসান। হেড তার বোলিংয়ের প্রশংসা করেছিলেন এবং নাথান লায়ন জানতে চেয়েছিলেন এটি তার ক্যারিয়ারের কততম পাঁচ উইকেট। এর আগে ভারত ও পাকিস্তানের মাটিতে এবং ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটেও পাঁচ উইকেট শিকারের রেকর্ড রয়েছে হাসানের। ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচ উইকেট পাওয়ার অর্জনকে তিনি সমানভাবে মূল্যায়ন করেন। ইনিংস বিরতির সময় স্মারক বলটি নিজের কাছে রেখে মাঠ ছাড়েন এই পেসার।

অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার জন্য তিনি আগে থেকেই মুখিয়ে ছিলেন। নিজের বোলিং প্রক্রিয়া সম্পর্কে হাসান বলেন, তিনি কেবল সঠিক লাইন ও লেংথ বজায় রেখে বল করার চেষ্টা করেছেন এবং অধিনায়কের নির্দেশনা মেনে চলেছেন। সামনের দিনগুলোতে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে জানিয়ে হাসান বলেন, আপাতত সেই ম্যাচগুলোর প্রস্তুতির দিকেই তার পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে।

সফরে আসার আগের পরিকল্পনা এবং মাঠে নিজের বোলিং প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন নিয়ে হাসান বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম, কারণ তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।

আমি শুধু লাইন-লেংথ অনুযায়ী বল করেছি, প্রক্রিয়াটা মেনে চলা ও অধিনায়ক যা বলছে, তা অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি।’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সামনের ম্যাচ নিয়ে ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে আরও অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে, আরও খেলা আছে।

প্রস্তুতি নিয়ে বলবো, আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো ছিল।

অনুশীলনের জন্য আমরা বেশ কিছুদিন সময় পেয়েছিলাম, আর আমার মনে হয় বোলাররা খুব সুন্দরভাবে প্রস্তুতি নিতে পেরেছেÑ ম্যাচেও আপনারা তা দেখতে পাচ্ছেন।

কিন্তু দলের এই চিন্তা বল হাতে উড়িয়ে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ।

ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সামনের খেলায় মনোযোগ দেবো।’