যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই উভয় রাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে শর্ত লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলায় এর মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার কোনো সিদ্ধান্ত তেহরান নেয়নি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানকে পরাজিত করে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করবে।
গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে এই সমঝোতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে জাতিসংঘের অনুমোদনে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং পুনর্গঠন প্যাকেজ প্রদানের প্রতিশ্রুতি ছিল। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছিল।
তবে স্বাক্ষরের পর থেকেই চুক্তিটি কার্যকর করতে ব্যর্থ হয় উভয় পক্ষ। ট্রাম্প ইরানের কার্যক্রমকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেন। বিপরীতে, মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ তুলে তেহরান তাদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করে দেয়। নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ বহাল থাকায় হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটেনি, বরং সমঝোতা স্মারকটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তেহরান তাদের নিরাপত্তা পরিষদে কঠোর মনোভাবাপন্ন সাবেক আইআরজিসি প্রধান মোহসেন রেজাইকে অন্তর্ভুক্ত করায় ভবিষ্যতের অবস্থান আরও সংঘাতপূর্ণ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও সংকট দেখা দিতে পারে।

