১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিল করল এনবিআর

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের জন্য এতদিন শুল্কমুক্ত সুবিধায় ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানির যে বন্ড সুবিধা ছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক সাধারণ আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ব্যাংক গ্যারান্টি ছাড়া এই সুতা আমদানি করা সম্ভব হবে না।

এনবিআরের এই নতুন বিধানের ফলে বন্ডেড পোশাক কারখানাগুলোকে এখন কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে নন-বন্ডেড রপ্তানিকারকদের মতো একই ধরনের ব্যাংক গ্যারান্টি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। মূলত স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ চলছিল। গত ২০ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে এইচএস কোড ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭-এর আওতায় এই নতুন শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মোট সুতা আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশই ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের। গত বছর এই ক্যাটাগরির সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। ফলে নতুন এই ব্যবস্থার কারণে রপ্তানিকারকদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনবিআরের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে তৈরি পোশাক খাতের দুই শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। সংগঠন দুটির দাবি, ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা ছাড়াই এই ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। তবে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) অবস্থানে। তারা এনবিআরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বিটিএমএ-এর মতে, রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের শর্ত যুক্ত হওয়ায় এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আওয়ামী সরকারের ঋণ: পাঁচ মাসে ২০৪ কোটি ডলার পরিশোধ করলো বর্তমান সরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে এসব সুতা আমদানির সুযোগ বহাল থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যাংক গ্যারান্টিতে আমদানি করা সুতা তখনই অবমুক্ত করা হবে, যখন ওই সুতায় তৈরি পণ্যের রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসিত হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এছাড়া আমদানি ও অবমুক্তির ক্ষেত্রে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ অথবা বিটিএমএর যেকোনো একটির প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের আর্থিক ব্যয় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ সংকট: রাজনৈতিক সমাধানের পথ কোথায়।