প্রেক্ষাপট: শিক্ষার্থীদের ঢাকার ইতিহাস চেনাতে ছুটির দিনে শিক্ষাসফরের বিশেষ উদ্যোগ ডিএসসিসির

রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছরের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে নিবিড়ভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লক্ষে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সংস্থার পরিকল্পনায় রয়েছে ছুটির দিনে শিক্ষার্থীদের কার্জন হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লা ও আহসান মঞ্জিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে শিক্ষাসফর বা স্টাডি ট্যুরের আয়োজন করা।

সোমবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় আয়োজিত ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ নাট্যোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এই পরিকল্পনার কথা জানান ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সিটি করপোরেশনের কাজ কেবল নাগরিক সেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা কর আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শহরের সাংস্কৃতিক বিকাশ ও ইতিহাস সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করাও তাদের অন্যতম দায়িত্ব। তিনি জানান, ঢাকার ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সুরক্ষায় লালকুঠিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বর্তমানে সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে ডিএসসিসির নিয়ন্ত্রণাধীন মিলনায়তন ও কমিউনিটি সেন্টারগুলো ব্যবহারে নাট্যকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এর আগে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকার ঐতিহ্য নিয়ে নয়টি ভিন্ন নাট্যদল তাদের পরিবেশনা মঞ্চস্থ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাচ্যনাটের ‘কিনু কাহারের থেটার’, লোক নাট্যদলের ‘কঞ্জুস’, ঢাকা পদাতিকের ‘ট্রায়াল অব সূর্য সেন’, বাঁশরী রেপার্টরি থিয়েটারের ‘আলেয়া’, আরণ্যক নাট্যদলের ‘কম্পানি’, থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ‘আমিনা সুন্দরী’, তীরন্দাজ রেপার্টরির ‘কণ্ঠনালীতে সূর্য’, দৃষ্টিপাত নাট্য দলের ‘সে এক স্বপ্নের রাত’ এবং বাংলাদেশ থিয়েটারের ‘সী-মোরগ’। উৎসবের প্রথম পর্বটি ১৬ থেকে ২৩ আগস্ট পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সমাপনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খয়বর রহমান। অনুষ্ঠানের শেষাংশে উৎসবে অংশ নেওয়া নাট্যদলগুলোর প্রতিনিধিদের মাঝে সনদপত্র, সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যাতে নগরবাসী বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা তাদের শেকড় ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, লালকুঠিসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো আগের রূপে ফিরিয়ে আনতে সংস্কারকাজ চলছে।