পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবন্দি জীবন ও চিকিৎসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাতজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার। অ্যালান বর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর এবং স্টিভ ওয়াহ অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং-এর কাছে একটি যৌথ চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে তারা ইমরান খানের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মানবিক আচরণের বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা কোনো রাজনৈতিক বা আইনি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চান না। তারা কেবল একজন সহকর্মী ক্রিকেটারের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের মতে, ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়া, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং আইনি পরামর্শে বাধার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ। চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, যে কোনো ব্যক্তির আটকাবস্থায় তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ প্রদর্শন করা একটি মৌলিক অধিকার, যা রাজনৈতিক পরিচয়ের উর্ধ্বে থাকা উচিত।
গত সাত মাসে এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কদের পক্ষ থেকে ইমরান খানের পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তৃতীয়বারের মতো আহ্বান। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবসহ ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের কারাবন্দি জীবনে মানবিক অবস্থা ও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে আগস্ট মাসে ২১ জন সাবেক অধিনায়ক সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত মেডিকেল পরীক্ষা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রেক্ষাপটে পুনরায় তাদের আবেদনটি নবায়ন করেন।
সর্বশেষ এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে গত মাসে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার লর্ডস টেস্টের সময় ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিমের একটি সাক্ষাৎকার প্রচারের পর। মাইকেল আথারটনের নেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে তারা বাবার স্বাস্থ্যের অবনতি এবং বন্দিশালার কঠোর অবস্থার বর্ণনা দিয়েছিলেন। ওই সাক্ষাৎকারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানায় এবং মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে একটি অসন্তোষের খবরও শোনা গিয়েছিল। এখন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কদের এই নতুন আহ্বানের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।

