অভিষেকের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত

নয়াদিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ১২৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত। এই জয়ের ফলে টি-টোয়েন্টিতে ১০০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে জয়ের সংখ্যা ১০টিতে উন্নীত করল ভারত, যা এখন কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। বিপরীতে, ১২৭ রানের এই বিশাল পরাজয় ফরম্যাটটিতে আফগানিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হার। ২০১২ সালে কলম্বোয় ইংল্যান্ডের কাছে ১১৬ রানে পরাজিত হওয়ার রেকর্ডটি এতদিন তাদের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হার ছিল। এ ছাড়াও, ভারতের বিপক্ষে ৯৪ রানে অলআউট হয়ে তারা নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে।

ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক শর্মা। শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও হওয়া এই বাঁহাতি ব্যাটার মাত্র ১৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ২০ বলের কম সময়ে করা ফিফটি এবং ভারতীয় ব্যাটারদের মধ্যে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম। ফিফটির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে পরের ৫০ রান তুলতে তিনি মাত্র ১৪ বল ব্যয় করেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩০ বল খেলে ১০ ছক্কা ও ৯ চারের মারে ১০৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এটি দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড এবং সব দেশ মিলিয়ে তৃতীয় দ্রুততম।

অভিষেক ও সঞ্জু স্যামসনের জুটি ভারতের সংগ্রহকে বড় করতে মূল ভূমিকা পালন করে। স্যামসন ৩৫ বলে ৫০ রান করেন এবং দুজনে মিলে পাওয়ারপ্লেতে ১০০ রান তোলেন, যা পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ দ্রুততম পাওয়ারপ্লে শতরান। অভিষেক আউট হওয়ার পর শ্রেয়াস আইয়ার ২০ বলে ২৯, শিবম দুবে ১০ বলে ১৪ এবং ইশান কিষান ৮ বলে ১০ রান করলে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়।

বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান ১৬ বলে ২৫ এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১৩ বলে ১৭ রান করলেও দলের হাল ধরতে পারেননি। মাত্র ১৪.১ ওভারেই ৯৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। ভারতের বোলারদের মধ্যে নীতিশ কুমার রেড্ডি ২৫ রান দিয়ে তিনটি এবং রবি বিষ্ণোই ২৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া অক্ষর প্যাটেল নিজের ঝুলিতে যোগ করেন দুটি উইকেট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ২০ বলের কম সময়ে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১০ ছক্কায় মাত্র ৩০ বলেই তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে যান তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে গড়েন ১৪২ রানের জুটি।