তারেক রহমানের বিনয় ও সংযম: রাষ্ট্র বদলের নতুন আশা

দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছিলেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটে। শোকের ছায়া কাটিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়া তারেক রহমানের নেতৃত্বে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। জিয়া পরিবার থেকে এটি তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপ্রধান হওয়ার অনন্য এক নজির। তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে আসা খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় বেশ কিছু ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, যা রাজনীতির অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সরকার গঠনের প্রথম সাত মাসেই নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা প্রান্তিক ও দরিদ্র পরিবারের সুরক্ষায় সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে খাদ্যসামগ্রী অথবা দুই হাজার টাকা নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সততা ও সরল জীবনযাত্রা রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে এই উদ্যোগের দীর্ঘস্থায়ী সুফল নির্ভর করবে এটি ব্যক্তি পর্যায় থেকে প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির সর্বস্তরে কতটা বিস্তৃত হচ্ছে তার ওপর। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই জনবান্ধব আচরণের ভারসাম্য বজায় রাখাটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিগত বিনয় ও সংযমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সুশাসনের সমন্বয় ঘটাতে পারলে এই উদ্যোগগুলো দেশে একটি স্থায়ী পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে।

তারেক রহমানের এই বিনয়ী ও সংযমী ভূমিকা নিঃসন্দেহে বর্তমান রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সুধীমহলের প্রত্যাশা, তাঁর এই ব্যক্তিগত গুণাবলি রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়বে এবং একটি জবাবদিহিমূলক, জনবান্ধব ও সুশাসনভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পথ দেখাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন তিনি ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিরল অধ্যায়ের সূচনা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই পরিবারের তিন সদস্য সরকারপ্রধান হওয়ার নজিরে যুক্ত হয় জিয়া পরিবার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ব্যাপক জনসমর্থন অর্জন করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় সরকার পরিচালনা করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে জনকল্যাণমুখী ও সাহসী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রশংসিত হচ্ছে তাঁর সরকার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনে তাঁর কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটা স্বস্তি ফিরিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারগুলোকে (প্রধানত নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে) প্রতি মাসে খাদ্যসামগ্রী অথবা ২০০০ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।