অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআর লেনদেনে বাড়তি প্রণোদনা সুবিধা

ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বাড়াতে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক কেনাকাটায় প্রণোদনার আওতায় বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন মূলত ব্যক্তিগত রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে যুক্ত ক্ষুদ্র বিক্রেতারা এই সুবিধা পেলেও, এখন থেকে ট্রেড লাইসেন্সধারী সব মার্চেন্ট পয়েন্টকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে এই প্রণোদনা দেওয়া হবে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। জটিলতা বা বিলম্ব হলে সাধারণ ব্যবহারকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহ হারাতে পারেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। প্রতিটি যোগ্য বাংলা কিউআরভিত্তিক ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ০.২০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। সে অনুযায়ী, ১ হাজার টাকার একটি লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান ১ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ২ টাকা—অর্থাৎ মোট ৩ টাকা প্রণোদনা পাবে। ২ হাজার টাকার লেনদেনে এই সম্মিলিত প্রণোদনার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৬ টাকায় দাঁড়াবে। তবে এই প্রণোদনা গ্রাহকরা নয়, বরং মার্চেন্ট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে। আর প্রণোদনার সর্বোচ্চ সীমা ২ হাজার টাকার একটি লেনদেনে অ্যাকুয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাবে ২ টাকা এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান ৪ টাকা।

প্রণোদনা সুবিধার পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে। কিউআর কোডের মাধ্যমে কেনাকাটার সময় লেনদেন আটকে যাওয়া বা বিলম্বের সমস্যা সমাধানে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ডিজিটাল পেমেন্টের আস্থা অটুট রাখতে ট্র্যাডিশনাল কার্ড লেনদেনের চেয়েও দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি করা জরুরি। এ কারণে গ্রাহক সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত স্বয়ংক্রিয় রিভার্সাল চালু এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পেমেন্ট পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নীতিমালায় কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, লেনদেন ব্যর্থ হওয়ার পর গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা কেটে নেওয়া হলে কোনো প্রকার অভিযোগ ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ মিনিটের মধ্যে সেই অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দিতে হবে। এছাড়া সাধারণ বিরোধ তিন কার্যদিবসের মধ্যে এবং ভিন্ন ব্যাংকের লেনদেন এনপিএসবির মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কারিগরি ত্রুটি কমাতে কোনো লেনদেন সফল হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে বা গ্রাহকের দাবি অযৌক্তিকভাবে প্রত্যাখ্যান করলে ‘বাংলাদেশ পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪’ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, এমএফএস বা পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।