উপস্থাপনা ও অভিনয়ে পরিচিতি থাকলেও রুহানী সালসাবিলের শৈশবের বড় অংশ জুড়ে ছিল নৃত্যচর্চা। জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় মনিপুরী নাচে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরবও রয়েছে তার। সেই নাচের অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার ‘শাপলা কুঁড়ি ২০২৬’-এর ঢাকা বিভাগীয় নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এর আগে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নৃত্য প্রতিযোগিতায় তাকে বিচারকের আসনে দেখা গেছে।
বিচারকের আসনে বসার এই অভিজ্ঞতা রুহানীর কাছে অত্যন্ত আবেগের। নিজের শৈশবের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, মা-এর হাত ধরে বগুড়া থেকে ঢাকায় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসতেন। ছোটবেলায় ভরতনাট্যমের গুণী নৃত্যশিল্পী বেলায়েত হোসেনকে বিচারক হিসেবে পেতেন, আর আজ সেই বেলায়েত স্যারের পাশেই বিচারকের চেয়ারে বসার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তটি তার কাছে ভীষণ আনন্দের। এছাড়া ২০১০ সালে বিটিভির এনলিস্টেড হওয়ার পরীক্ষায় সোহাগ স্যারের কোরিওগ্রাফিতে ‘হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে’ গানে নাচের স্মৃতিচারণ করে স্যারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাপ করেন রুহানী। বর্তমান প্রজন্মের প্রতিযোগীদের নাচের দক্ষতা নিয়েও তিনি মুগ্ধ এবং তাদের বিচার করা বেশ কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ‘শাপলা কুঁড়ি ২০২৬’-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতাও খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
পেশাগত জীবনের ব্যস্ততার পাশাপাশি রুহানী নিয়মিত উপস্থাপনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের তুলনায় টেলিভিশনের কাজের পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিলেও বর্তমানে বিটিভিতে ‘সেলিব্রিটি শো’, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ‘ক্যাচ দ্য স্টার’, আরটিভিতে ‘সেফস স্টুডিও’, এসএটিভিতে ‘সাইন অন’ এবং দেশ টিভিতে ‘স্টার লাউঞ্জ’-এর মতো অনুষ্ঠানে তাকে উপস্থাপনা করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি রাজধানীর রেডিসনে একটি করপোরেট ইভেন্টেও উপস্থাপনা করেছেন তিনি এবং আগামী মঙ্গলবারও আরেকটি আয়োজনে যুক্ত থাকার কথা রয়েছে তার। রুহানী জানান, বর্তমানে আয়োজকরা তাকে ইংরেজিতে উপস্থাপনার জন্যই বেশি আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, তবে বাংলায় উপস্থাপনার কাজও তিনি সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থপতি হিসেবে কর্মজীবন সামলানোর পাশাপাশি পরিবার ও একমাত্র সন্তান শীর্ষকে ঘিরেই তার মূল স্বপ্ন। নানা পরিচয়ে ব্যস্ত থাকলেও সংসার ও সন্তানই তার কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিনয়ের জগত থেকে আপাতত দূরে থাকলেও উপস্থাপনা, নৃত্য এবং স্থাপত্যবিদ্যার কাজগুলো নিয়েই বর্তমানে তার সময় কাটছে।

