মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও উপস্থিতি বাড়ানোর অংশ হিসেবে আরও একটি নতুন বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার (২ অক্টোবর) গার্ডিয়ান জানায়, অক্টোবরের শেষ নাগাদ অঞ্চলটিতে একই সঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি বহরের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। এরই মধ্যে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই বিশাল সামরিক বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত এলো। কৌশলগত নিরাপত্তার কারণে সুনির্দিষ্ট জায়গা না বললেও তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই নতুন সেনাদল মোতায়েনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত মার্কিন নৌসেনা ও মেরিন সেনার মোট সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এটিই হতে যাচ্ছে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি। বর্তমানে সেখানে ৭ হাজারেরও বেশি নৌসেনা ও ২ হাজার মেরিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা হওয়া এই মার্কিন সামরিক বহরে রয়েছে এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ স্ট্রাইক গ্রুপ এবং বিশেষায়িত উভচর হামলাকারী দল ‘ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড’ অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। এর সঙ্গে দুটি উভচর ল্যান্ডিং জাহাজও রয়েছে।
এই সামরিক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ ও হামলার মাত্রা আরও বাড়ানো হতে পারে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রণালি বা ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ খুলে দেওয়ার মতো অফার ইরান থেকে দেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, শুরুতে যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা থাকলেও, ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখে দিতে পারলে তা নির্বাচনী ফলাফলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মূলত ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করাকেই ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান সামরিক কৌশলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

